জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) ২১তম আসরের প্রথম দিনেই হানা দিল বৃষ্টি। গতকাল বৃহস্পতিবার লিগের প্রথম রাউন্ডের চার ম্যাচের দুটিতে বৃষ্টির ফাঁক গলিয়ে কিছুটা খেলা হয়েছে। বাকি দুটিতে নির্বাসিত ছিল ব্যাট-বলের লড়াই, কোনো বলই মাঠে গড়ায়নি। তবে যে দুটি খেলা মাঠে গড়িয়েছে তাতে বোলাররাই দাপট দেখিয়েছেন।
মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে গতকাল দ্বিতীয় স্তরে চট্টগ্রাম বিভাগ-ঢাকা মেট্রোর ম্যাচে খেলা হয়েছে ৫১ ওভার। বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ হওয়ার আগে টসজয়ী চট্টগ্রাম তিন উইকেটে ১৪৭ রান তুলেছে। পিনাক ঘোষ ৩০, তাসামুল ১৭ রানে ব্যাট করছেন। রাজশাহীর শহীদ কামরুজ্জামান স্টেডিয়ামে সিলেট-বরিশাল বিভাগের ম্যাচে টসই হয়নি।
ফতুল্লার খান সাহেব স্টেডিয়ামে গতকাল প্রথম স্তরে রাজশাহী-ঢাকা বিভাগের ম্যাচে খেলা হয়েছে ৫১.৫ ওভার। বৃষ্টির বাধার আগে টসে হেরে ব্যাট করা ঢাকা সাত উইকেটে ১৪৩ রান তুলেছে। তাইবুর রহমান ১২ ও নাজমুল অপু শূন্য রানে অপরাজিত আছেন। খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে রংপুর-খুলনা বিভাগের ম্যাচেও টসই হয়নি।
মিরপুরে গতকাল টস জেতা চট্টগ্রামের শুরুটা ভালোই ছিল। চার বছর পর এনসিএল খেলতেনামা তামিম ইকবাল ও সাদিকুর রহমানের ওপেনিং জুটিই তুলেছিল ৮০ রান। ভেজা আউটফিল্ডের কারণে পরে শুরু হওয়া ম্যাচে লাঞ্চের আগেই সাদিকুর ৫১ রান করে মাহমুদউল্লাহর বলে স্ট্যাম্পড হন। পরে চট্টগ্রামের বাকি দুই উইকেটও এই অফস্পিনারই নিয়েছেন। একপ্রান্ত ধরে ১৮ ওভার বোলিং করেছেন তিনি।
শ্রীলঙ্কা সফরের পর থেকে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটের বাইরে থাকা তামিম ব্যাট হাতে ছিলেন ধৈর্যের মূর্তি। তবে ম্যাচে ফেরার ইনিংসটা বড়ো করতে পারেননি এই বাঁহাতি ওপেনার। ১০৫ বলে ৩০ রান করে ফিরেছেন। পুল করতে গিয়ে টপ এজ হয়, বল আকাশে উঠলে মাহমুদউল্লাহ নিজেই ক্যাচ ধরেন। শ্রীলঙ্কায় চারদিনের ম্যাচে সেঞ্চুরি করে আসা চট্টগ্রামের অধিনায়ক মুমিনুল ১১ রান করে পয়েন্টে ক্যাচ দিয়েছেন। এরপর বৃষ্টিতে কয়েকবার বন্ধ হয়েছিল ম্যাচ। মুমিনুলের বিদায়ের পর পিনাক ঘোষ ও তাসামুল হক আর বিপদ হতে দেননি। বেলা তিনটার পর নামা বৃষ্টিতে গতকাল মিরপুরে আর খেলাই হয়নি।
ফতুল্লায়ও গতকাল বৃষ্টিতে খেলা নির্ধারিত সময়ের পরেই শুরু হয়েছিল। ২৯ রানেই ওপেনার আব্দুল মজিদের (১০) উইকেট হারিয়েছিল ঢাকা বিভাগ। দ্বিতীয় উইকেটে রনি তালুকদার ও জয়রাজ শেখ ৮০ রানের জুটি গড়েন। তাদের জুটি ভাঙতেই পথ হারায় ঢাকার ইনিংস। রাজশাহীর বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম ও পেস বোলার শফিউল ইসলাম নাড়িয়ে দেন ঢাকার ব্যাটিং লাইন। মিডল অর্ডারে রকিবুল (৮), শুভাগত হোমরা (১) উইকেটে থিতু হতে পারেননি। জয়রাজ শেখ ৩৫ রান করে তাইজুলের বলে এলবির ফাঁদে পড়েন। ৬৩ রান করে রনি তালুকদার শফিউলের শিকার হন। বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ হওয়ার আগে তাইবুর রহমান ও নাজমুল ইসলাম ৯ রানের জুটি গড়ে অবিচ্ছিন্ন ছিলেন। রাজশাহীর তাইজুল ৫৫ রানে চারটি, শফিউল ৪০ রানে তিনটি উইকেট নেন।