মাতামুহুরী নদীর অব্যাহত ভাঙনে লামা বাজারসহ লামা ও আলীকদমের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা মাতামুহুরী নদীতে বিলীন হচ্ছে। এ বছর বর্ষা মৌসুমে ভাঙন বৃদ্ধি পেলে উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভার পক্ষ থেকে ভাঙন রোধে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডে আবেদন করা হয়। সূত্র জানায়, লামা ও আলীকদম উপজেলায় মাতামুহুরী নদীর ভাঙন রোধে ডিপিপি প্রণয়ন করছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড।
লামা পৌরসভার লামা বাজারের অধিবাসী সিরাজুল ইসলাম জানান, এ বছর বর্ষায় আমার ভবনটি রক্ষা করতে নিজে ২ লক্ষাধিক টাকা ব্যয় করে বল্লি ফাইলিং করায় কোনোরকমে রক্ষা হয়েছে। আগামী বর্ষা মৌসুমের পূর্বে ভাঙন প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে সারা জীবনের অর্জন নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।
লামা পৌরসভার মেয়র মো. জহিরুল ইসলাম জানান, মাতামুহুরীর ভাঙন যে ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে তাতে করে পৌর এলাকার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হুমকির মুখে পড়েছে। বিশেষ করে লামা বাজারের পশ্চিম পাশে নদী পাড়ের শত শত বাড়িঘর এবং স্থাপনা হুমকির মুখে।
রূপসীপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান ছাচিং প্রু মার্মা জানান, নদীর ভাঙনে দরদরী ইব্রাহীম লিডার পাড়া, মসজিদ ও কবরস্থান নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পথে। লামা সদর ইউপি চেয়ারম্যান মিন্টু কুমার সেন জানান, মাতামুহুরীর ভাঙনে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক সদ্য নির্মিত আরসিসি ব্রিজটি ধসে যেতে পারে।
লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূর-এ-জান্নাত রুমি জানান, মাতামুহুরীর ভাঙন রোধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে পত্র দ্বারা অবহিত করা হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের বান্দরবানের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান জানান, বান্দরবান পার্বত্য জেলায় সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর ভাঙন রোধকল্পে পানি উন্নয়ন বোর্ড ডিপিপি প্রণয়ন করছে। গত সোমবার গঠিত ডিপিপি প্রণয়নের কারিগরি কমিটি মাঠপর্যায়ে পরিদর্শন করেছে। কারিগরি কমিটি লামা পৌরসভার লামা বাজার, রাজবাড়ী ও রূপসীপাড়ার অংহ্লা পাড়া এবং আলীকদমের ভাঙন এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করে স্থানীয় জনসাধারণের মতামত গ্রহণ করেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের পরিচালক (পরিকল্পনা-১) ড. শ্যামল চন্দ্র দাশ জানান, মাতামুহুরী নদীর ভাঙনের অবস্থা, নদীর পানি প্রবাহের গতি, নদীতে সংযোগ ছড়া ও খালের অবস্থা, নদীর নাব্যতাসহ কারিগরি বিষয়গুলো সরেজমিন পরিদর্শন করা হয়েছে। ভুক্তভোগী জনসাধারণের মতামত নেওয়া হয়েছে। নদীর পানি যাতে লামা শহরে প্রবেশ করতে না পারে এবং মাতামুহুরী নদীর পানি প্রবাহ যাতে স্বাভাবিক থাকে এই বিষয়গুলো মাথায় রেখেই ডিপিপি প্রণয়ন করে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হবে। আশা করা যাচ্ছে আগামী ৩ মাসের মধ্যে মাতামুহুরীর ভাঙন রোধের ডিপিপি অনুমোদন হবে।