কাতার-২, বাংলাদেশ-০

লড়ে হারল বাংলাদেশ

খেলল বাংলাদেশ। গোল হজম করল বাংলাদেশ। কাতারের কাছে ২-০ গোলে হারল বাংলাদেশ। পুরো ৯০ মিনিটের লড়াইয়ের পরিসংখ্যানটা বিশ্লেষণ করলে সব কথাই বাংলাদেশের পক্ষে লিখতে হয়। দুটি গোল ছাড়া কাতারের হিসাবের খাতায় তেমন কিছুই নেই। পুরো গল্পটা বাংলার ছেলেদের নিয়ে। গোলকিপার আশরাফুল রানা, অধিনায়ক জামাল ভুঁইয়া, জীবন, সোহেল রানা, রায়হান হাসান, রহমত মিয়া, সুফিল, বিপলু, ইয়াসিনরা কাতারকে প্রথমার্ধেই কাঁপিয়ে দেবেন—এটা কল্পনা করা যায়নি। হাজার বিশেক দর্শক মাঠ কাঁপিয়ে প্রেরণা দিল। খেলা দেখে উজ্জীবিত দর্শক। আওয়াজ তুলল গগনবিদারী। সংবাদমাধ্যমের চোখ পড়ল গ্যালারিতে। এত আওয়াজে জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা কবে খেলেছেন, মনে পড়ে না। গত ১০ বছরেও এত ভালো ফুটবল খেলেননি বাংলাদেশের ফুটবলাররা। দর্শকদের মন ভরিয়ে দিয়েছে আত্মবিশ্বাসী ফুটবল। প্রথমার্ধে ১-০ খেলা শেষের মুহূর্তে ২-০। তাতে কী, খেলার যে ধারা তা দেখে দর্শক দারুণ খুশি। মন জয় করা এক ম্যাচ ছিল এটি। অথচ এই ম্যাচ জেতার মতো  যত রকম রসদ দরকার ছিল তার সবই পেয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু ভাগ্য পক্ষে না থাকলে কী আর করা। কাতার আগেই জানিয়েছিল, তারা বৃষ্টিভেজা মাঠে অভ্যস্ত নয়। বাংলাদেশের ফুটবলারদের জন্য এটি কাজে লেগেছে। কাল ম্যাচ শেষে কাতারের স্প্যানিশ কোচ ফেলিকস সানচেজ বললেন, ‘এত ভারী মাঠে খেলা যায় না।’ আর বাংলাদেশের কোচ জেমি ডে বললেন, ‘আমরা হতাশ, গোল না পেয়ে।’

স্ট্রাইকিং পজিশনে জীবন। ঢুকে গিয়েছিলেন কাতারের সীমানায়। গোল হয়নি। রায়হান ছিলেন থ্রোয়ের মাস্টার। লম্বা থ্রোগুলো কাতারকে ভয়ে রেখেছিল। বাংলাদেশ যখনই থ্রো পেয়েছে সেগুলো কর্নারে রূপান্তর করেছেন রায়হান। থ্রো হলেও কাতারের সব ফুটবলার গোলমুখে জড়ো হয়েছেন। কাতার ভাবেনি এত দর্শক মাঠে আসবে। সমর্থকরা কাতারকে বিপদে ফেলতে পারে, সেটা বোধহয় তারাও বুঝতে পারেনি। তাই হয়তো খুব সাবধানে লড়াই করতে হয়েছিল। বাংলাদেশের ফুটবলাররা কাতারকে একটুও ভয় করেনি। এটা ছিল সবচেয়ে বড়ো বিষয়। ফিফার র্যাংকিংয়ে কাতারের চেয়ে ১২৫ ধাপ পিছিয়ে থাকলেও কাল বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের মাঠে সেই ব্যবধান বুঝতেই দেয়নি বাংলাদেশ। মনে হচ্ছিল সেয়ানে সেয়ানে লড়াই হচ্ছে। কাতারকে নাকানি-চুবানি দিয়েছে বাংলাদেশের ফুটবলাররা। কাতারের ফরোয়ার্ড বাসাম সেটপিস পেয়েও কিছুই করতে পারেনি। যেটা নিয়ে ভয় ছিল সবার। কাতারের ওপর আক্রমণ, স্রোতের বিপরীতে ২৮ মিনিটে গোল হজম করেছে। ডিফেন্ডারদের ভুলের মাশুল দিয়েছে। বৃষ্টিভেজা মাঠে বাঁক খাওয়ানো শটে গোল করেন ইউসুফ ১-০। গোল হজমের পরও বাংলাদেশের দর্শক খেলোয়াড়দের উজ্জীবিত করতে হাততালি দিয়ে দাঁড়িয়ে যায়।

জীবনরা গোলের সুযোগ করে নিয়েছিলেন। দুর্দান্ত আক্রমণে কাতারকে নাজেহাল করেও গোল হয়নি। গোল লাইন থেকে বল ফিরে এসেছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে। কাতারের দুই ডিফেন্ডার প্রথমে জীবন এবং পরে বিপলুর শট থামিয়ে দিয়েছেন। এমন সুযোগ মিস হতে পারে কল্পনাও করা যায় না। পুরো স্টেডিয়ামের দর্শক আফসোসে ফেটে পড়েছে। বাংলাদেশ চেয়েছিল একটা-দুইটা আক্রমণ করে দলটাকে ঠেকিয়ে রাখবে। সেখানে বাংলাদেশ অন্তত হাফ ডজন গোলের সুযোগ সৃষ্টি করে। অথচ দুর্ভাবনা ছিল বাংলাদেশের রক্ষণ ভেঙে চুরমার করে দেবে, কিন্তু হয়েছে উলটো। দুর্দান্ত ফুটবল উপহার দিয়েছে বাংলাদেশ। যদিও ভারী মাঠে খেলার অভ্যাস নেই কাতারের। তারা টার্ফে খেলে থাকে।

দ্বিতীয়ার্ধে কাতার খানিকটা সময় বাংলাদেশের সীমানায় খেললেও সেটা খুব বেশি নয়। কাতারের ওপর পালটা আক্রমণ করে কাতারকে কুপোকাত করতে করতেও হয়নি। এবারও দুর্ভাগ্য। জীবনকে তুলে নিয়ে কোচ জেমি ডে নামিয়েছিলেন সুফিলকে। সুফিল নিজেকে প্রমাণ করেছেন, বেড়ে যায় আক্রমণের ঝাঁজ। সুফিল তিন বার গোলে বল বাড়িয়েছিলেন। ডিফেন্ডার ইয়াসিন ওপরে উঠে সুযোগ পেয়েও পারেননি। সুফিলের শট কাতারের গোলকিপার সাদ ঠেকিয়ে দেন। ইব্রাহিমের শট, বিপলুর শট অল্পের জন্য বাইরে গেলে বেঁচে যায় কাতার। দুর্ভাগ্য, খেলার ইনজুরি টাইমে দ্বিতীয় গোল হজম করে বাংলাদেশ। কাতারের দুই ফুটবলার পরিষ্কার অফসাইডে দাঁড়ানো। গোল করেন করিম ২-০।