বিপিসির দুটি এলপিজি প্ল্যান্টে বছরে প্রায় ২৫ হাজার টন উত্পাদনের সক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু ১৫ হাজার টনের বেশি উত্পাদন হচ্ছে না। বেসরকারি কোম্পানির চেয়ে দাম কিছুটা কম হওয়ায় বাজারে বিপিসি’র এলপি গ্যাসের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। প্ল্যান্টে পর্যাপ্ত কাঁচামাল যোগান বাড়ানো গেলে সরকারি এই দু’টি প্ল্যান্টে উত্পাদন আরো বাড়ানো সম্ভব বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। অভিযোগ উঠেছে বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে সুবিধা প্রদানের জন্য সংস্থার নীতি নির্ধারনী পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কারসাজি রয়েছে। প্ল্যান্টে চাহিদা অনুপাতে কাঁচামাল যোগান দেওয়া হচ্ছে না। যান্ত্রিকত্রুটি ও মেরামতে নামে ঘনঘন উত্পাদন বন্ধ রাখা হচ্ছে। এতে ক্রেতারা নির্ধারিত সময়ে বিপিসি’র এলপি গ্যাস না পাওয়ায় বেসরকারি এলপি গ্যাস সংগ্রহ করতে বাধ্য হচ্ছে।
সংস্থার সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়,কয়েক বছর আগেও প্রতিষ্ঠানটি লাভজনক ছিল। উত্পাদন ক্রমশ: কমতে থাকায় এটি এখন লোকসানী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হচ্ছে। আয়-ব্যয়ে সমন্বয় হচ্ছে না। গত ১৫-১৬ ও ১৬-১৭ অর্থবছরে প্রায় ৯০ লাখ টাকা লোকসানে ছিল। ১৭-১৮ অর্থ বছরে সাড়ে ১৬ লাখ টাকা লাভ করেছে। আবাসিকে পাইপ লাইনের মাধ্যমে সরবরাহকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের সংযোগ প্রদান বন্ধ রয়েছে। যার কারণে বাজারে এলপি গ্যাসের চাহিদা প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। শহর থেকে গ্রামে পর্যন্ত এখন এলপিজির চাহিদা বেড়েছে। দেশের মোট চাহিদার মধ্যে সরকারি প্ল্যান্ট থেকে বছরে ১৫ হাজার টন সরবরাহ দিচ্ছে। বাকী চাহিদা বেসরকারী কোম্পানি গুলো মেটাচ্ছে।
সরকারী ভাবে ইষ্টার্ন রিফাইনারী ও সিলেটের কৈলাশটিলায় দু’টি এলপিজি প্ল্যান্ট রয়েছে। জানতে চাইলে ইষ্টার্ন রিফাইনারী লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আখতারুল হক ইত্তেফাককে বলেন, প্ল্যান্টের সক্ষমতার চেয়ে উত্পাদন কম হচ্ছে না। তবে মাঝে মধ্যে শাট-ডাউনের কারণে উত্পাদন বন্ধ রাখতে হয়। ফলে গড়ে হিসাব করলে উত্পাদন কম মনে হচ্ছে। আমাদের নতুন একটি ইউনিট বাড়ানো হচ্ছে।’
বিপিসি’র এলপি গ্যাস বিপণনে জড়িত সংশ্লিষ্টরা জানান, নীতি নির্ধারনী সংশ্লিষ্টদের কারণে বিপিসি’র এলপি গ্যাস বাজার হারাচ্ছে। সুবিধাভোগী দুষ্টচক্র প্রতিষ্ঠানটিকে জিম্মি করে রেখেছে। ক্রেতারা চাহিদা অনুপাতে এলপিজি পাচ্ছে না। অধিকাংশ সিলিন্ডার জরাজীর্ন ও মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে। এতে নিত্য দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে। চাহিদা থাকলেও নতুন সিলিন্ডার আমদানি করা হচ্ছে না। সিলিন্ডারের ভাল্ব, টপ রিং-ফুট রিং ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিপিসি’র ৪ লাখ ৩২ হাজার সিলিন্ডার রয়েছে। এর মধ্যে ২৩ হাজার ৪৫৫টি সিলিন্ডার ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ৯ হাজার ২৯টি পুরানো সিলিন্ডার বাজেয়াপ্ত করার অনুমোদন দেয়া হয়েছে। আরো ৫ হাজার সিলিন্ডার বাজেয়াপ্তের জন্য আবেদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়া সিলিন্ডারের ঘাটতি মেটানোর জন্য ইতিমধ্যে ৩৫ হাজার আমদানি করে গ্রাহক পর্যায়ে সরবরাহ দেয়া হয়েছে। আরো ১০ হাজার সিলিন্ডার আমদানির জন্য অনুমোদন পাওয়া গেছে। পতেঙ্গায় এলপিজি কারখানায় দেখা গেছে পুরানো বিপুল সংখ্যক সিলিন্ডার রং করে রাখা হয়েছে গ্রাহকদের সরবরাহ দেয়ার জন্য। তবে রং করা এসব সিলিন্ডার ব্যবহার উপযোগী বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা দাবি করেছেন।
জানতে চাইলে এলপি গ্যাস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলুর রহমান খান ইত্তেফাককে বলেন,‘কাঁচামাল বাড়ানো গেলে এলপিজি উত্পাদন বাড়ানো সম্ভব। তবে আমরা তো কাঁচামাল সরবরাহ বাড়াতে পারছি না। এটি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের বিষয়। নতুন সিলিন্ডার ক্রয় প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পুরানোদের মধ্যে যেসব সিলিন্ডার ব্যবহার উপযোগী সেগুলো রং করে গ্রাহক পর্যায়ে সরবরাহের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।’ পতেঙ্গায় এলপি গ্যাস কারখানায় প্রতিদিন ৬ হাজার বোতল গ্যাস ভর্তির সক্ষমতা রয়েছে। গ্যাসের অভাবে বর্তমানে ২ হাজারের মতো সিলিন্ডারে গ্যাস ভর্তি করা হচ্ছে।