গাজীপুুর জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্রে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ঐতিহাসিক ভাওয়াল রাজবাড়ি। আয়তন এবং কক্ষের হিসাবে এত বিশাল রাজপ্রাসাদ বাংলাদেশে আর দ্বিতীয়টি নেই। দ্বিতল রাজপ্রাসাদটিতে সর্বমোট কক্ষ রয়েছে ৩৬৫টি। প্রায় পাঁচ একর জায়গার ওপর রাজপ্রাসাদটি নির্মিত হয়েছে। এর পশ্চিম পাশেই রয়েছে বিরাট এক দিঘি এবং সামনে রয়েছে বিশাল সমতল একটি মাঠ। দেড়শ বছরের প্রাচীন এই রাজবাড়ির পুরো এলাকা সীমানা প্রাচীর দিয়ে ঘেরা। এই চমত্কার রাজবাড়িটি হতে পারে আকর্ষণীয় এক পর্যটন স্পট।
রাজবাড়ির মূল প্রবেশদ্বার দিয়ে ঢুকে লন পেরিয়ে একেবারে পেছনে যেতে হলে হাঁটতে হবে অনেকটা পথ, পেরুতে হবে বেশ কয়েকটি অলিন্দ আর বারান্দা। বিশাল এ রাজপ্রাসাদের বিশালত্ব দেখে যে কেউ অভিভূত হবেন। অনেকেই রাজবাড়িতে ঢুকে গোলক ধাঁধায় হারিয়ে যাবেন। এর গলি-উপগলি দিয়ে একবার হেঁটে গিয়ে পুনরায় সে গলি খুঁজে পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়বে।
ভাওয়াল রাজবাড়িটি বর্তমানে ব্যবহূত হচ্ছে গাজীপুরের জেলা প্রশাসকের কার্যালয় হিসেবে সেই ১৯৮৪ সাল থেকে। পাশাপাশি এতে আছে আরো অনেকগুলো সরকারি অফিস, আদালত এবং ব্যাংকসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান। চাকরির সুবাদে এবং বিভিন্ন কাজে এ রাজবাড়িতে প্রতিদিন হাজার হাজার লোকের আগমন ঘটে। পাশাপাশি আসেন অনেক দর্শনার্থী অথচ ঐতিহাসিক একটি রাজপ্রাসাদ সরকারি অফিস হিসেবে ব্যবহূত হওয়াটা কতটুকু সমীচীন সে প্রশ্ন আজ বড়ো হয়ে দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয় লোকজনদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী যে কোনো একটি ঐতিহাসিক ভবন বা নিদর্শন যদি ১০০ বছরের বেশি প্রাচীন হয়ে থাকে তবে সেটিকে পুরাতত্ত্ব নিদর্শন হিসেবে ঘোষণা করে তার যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ করে দর্শনীয় স্থান হিসেবে সেটিকে গড়ে তুলতে হবে। অথচ ভাওয়াল রাজবাড়ির ক্ষেত্রে এ নিয়মটি সুস্পষ্টভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে।
গাজীপুর এক ঐতিহাসিক জনপদ। এর রয়েছে সমৃদ্ধ ও প্রাচীন ইতিহাস। এককালের ভাওয়াল পরগনাই বর্তমানে গাজীপুর জেলায় উন্নীত হয়েছে। একসময় ভাওয়াল পরগনা দোর্দণ্ড প্রতাপে শাসন করতেন বিখ্যাত গাজী বংশের শাসকগণ। তাদের স্মরণে এলাকার নামকরণ করা হয়েছে গাজীপুর। এরপর গাজীদের হাত থেকে শাসন ক্ষমতা চলে আসে রায় চৌধুরী বংশের হাতে। কুশধ্বজ রায়ের ছেলে বলরাম রায়ের হাতে ভাওয়ালে রায় চৌধুরী রাজবংশের গোড়াপত্তন। গোলকনারায়ণ রায়ের আমলে বর্তমান ভাওয়াল রাজবাড়ির নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং এ বংশের সবচেয়ে খ্যাতিমান শাসক রাজা কালীনারায়ণ রায়চৌধুরীর আমলে এই বাড়িটি পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়।