বিদেশ ভ্রমণে যাওয়া আট কর্মকর্তার ছয় জনই বিএমডিএ প্রকল্পের নন

রাজশাহী বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) খাল খনন ও খালের পানি কৃষি কাজে কীভাবে ব্যবহার করা যায়-তা দেখতে নেদারল্যান্ডে গেছেন আট কর্মকর্তা। অথচ এ তালিকার মাত্র দুইজন ছাড়া বাকিরা কেউই এই প্রকল্পের সঙ্গে সরাসরি জড়িত নন। প্রকল্পের আওতায় ২৪ কিলোমিটার খাল খননের কথা। ইতিমধ্যে ১৩ কিলোমিটার খনন শেষ হয়েছে। প্রকল্পের মাঝপথে বিএমডিএ কর্মকর্তাদের এই বিদেশ ভ্রমণ। 

বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রকল্পের টাকায় সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরে দেশ ও জনগণ কতটুকু লাভবান হবে-তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অভিজ্ঞতার নামে বিদেশ ভ্রমণ সুশাসনের পথে বড়ো বাধা বলেও মনে করেন তারা।

সূত্র মতে, রাজশাহীর বাঘা, চারঘাট ও পবা উপজেলার জলাবদ্ধতা নিরসন এবং ভূ-উপরিস্থ পানির প্রাপ্যতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ প্রকল্পের কাজ ইতিমধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ শেষ হয়েছে। মাঝপথে এসে প্রকল্প পরিচালক নাজিরুল ইসলাম, বিএমডিএ’র নির্বাহী পরিচালক আবদুর রশিদ, রাজশাহী রিজিয়নের নির্বাহী প্রকৌশলী শরীফুল হক, পঞ্চগড় রিজিয়নের নির্বাহী প্রকৌশলী রেজা মো. নূরে আলম নেদারল্যান্ডে গেছেন। তাদের সঙ্গী হয়েছেন, পরিকল্পনা কমিশন ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের দু’জন করে চার কর্মকর্তা।

এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের জন্য গতকাল বৃহস্পতিবার বিএমডিএ’র প্রধান কার্যালয়ে গিয়ে সংশ্লিষ্ট কাউকেই পাওয়া যায়নি। তবে ভারপ্রাপ্ত সচিব ও মনিটরিং কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, খালের পানি কৃষিকাজে কীভাবে জমিতে দেওয়া যায়-তা দেখতেই বিএমডিএ কর্মকর্তাদের এই সফর। পানির সর্বোত্তম ব্যবহার করা যায় কীভাবে তা হাতে কলমে শিখতে কর্মকর্তারা নেদারল্যান্ড গেছেন।

এদিকে, বিএমডিএ’র প্রকল্প মানেই সংশ্লিষ্টদের বিদেশ ভ্রমণ- এমন কথাবার্তা কর্মকর্তাদের মুখে মুখে থাকলেও সাংবাদিকদের সামনে কথা বলতে চাননি কেউই। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রশাসন শাখার এক কর্মকর্তা বলেন, প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত না থাকলেও পর্যায়ক্রমে সব কর্মকর্তাই বিদেশ সফরে যাচ্ছেন। বিদেশে ঘুরতে কে না চায়! তাই কোনোভাবে জড়িত দেখিয়েই তারা ঘুরছেন। এটা মন্ত্রণালয়ও জানে। যেহেতু মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাও থাকেন ঐ বহরে, সুতরাং অভিযোগ করে কখনো ফল হয় না। যে ছয় কর্মকর্তা প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত নন তারা হলেন-পরিকল্পনা কমিশনের অ্যাগ্রিকালচার ওয়াটার রিসোর্স অ্যান্ড রুরাল ইনস্টিটিউশন ডিভিশনের যুগ্ম প্রধান আবু ইউসুফ মিয়া ও সিনিয়র অ্যাসিসট্যান্ট চিফ ফরিদুল ইসলাম, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-সচিব আল মামুন ও ফিল্ড সার্ভিস উইংয়ের উপ-পরিচালক (সিড) রাধেশ্যাম সরকার, বিএমডিএ এর নির্বাহী পরিচালক আব্দুর রশিদ এবং বিএমডিএ এর পঞ্চগড় রিজিয়নের নির্বাহী প্রকৌশলী রেজা মো. নূরে আলম। সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন’র রাজশাহী অঞ্চলের সাবেক সমন্বয়ক সুব্রত কুমার পাল বলেন, বিদেশ ভ্রমণের পর অধিকাংশ কর্মকর্তাই সফলভাবে অভিজ্ঞতা প্রয়োগ করেন না।