তৃণমূলের ঘাড়ে হিন্দু পুরোহিত হত্যার দায় চাপাচ্ছে বিজেপি

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে সপ্তাহের শুরু থেকে নিখোঁজ থাকার পর বৃহস্পতিবার মৃতদেহ মিলেছে এক পুরোহিতের। মৃত ওই পুরোহিতের নাম সুপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায় বলে জানা গেছে। এদিকে তার এই মৃত্যুতে প্রতিহিংসার অভিযোগ এনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসকে কাঠগড়ায় তুলেছে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি। খবর এনডিটিভির।

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার আবহ তৈরি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে দলটি। ৪২ বছরের সুপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়কে গত সোমবার থেকে পাওয়া যাচ্ছিল না। বৃহস্পতিবার নদীর তীরে তাঁর মৃতদেহ পাওয়া যায়। মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ আনা হয়, চুরির কারণেই হত্যা করা হয়েছে তাঁকে। তিনি কিছু টাকা আনেন রবিবার। এরপর তিনি উধাও হওয়ার সময়ও ওই টাকা তাঁর কাছে ছিল বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু স্থানীয় বিজেপি প্রধান জগন্নাথ সরকার দাবি করেন, সুপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপি কর্মী ছিলেন। তাঁকে রাজনৈতিক কারণেই খুন করা হয়েছে।   

ওইদিন সন্ধ্যায়ই বিজেপি নেতা বাবুল সুপ্রিয় টুইট করে জানান, ‘হিন্দু পুরোহিত ও বিজেপি কর্মী সুপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়কে নৃশংস ভাবে হত্যা করা হয়েছে। গত চার দিনে আট জনকে খুন করা হল। পশ্চিমবঙ্গের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এক বিষণ্ণ ঠাট্টায় পরিণত হয়েছে। কেন তথাকথিত উদারপন্থীরা এমন হত্যাকাণ্ডের নীরব দর্শক হয়ে রয়েছেন? বাংলার মানুষ শোধ নেবে। অপেক্ষা করুন ও দেখুন।'

বাবুল সুপ্রিয় মুর্শিদাবাদে তিনটি খুনের ব্যাপারেও টুইট করেন। মঙ্গলবার ওই হত্যাকাণ্ডে নিহত হন এক শিক্ষক, এক গর্ভবতী মহিলা ও একটি ছ'বছরের শিশু।

বিজেপির মুখপাত্র সম্বিত পাত্রের টুইটে সাড়া দিয়ে বাবুল সুপ্রিয় ওই টুইট করেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে বহু সেলেব্রিটির লেখা চিঠির প্রসঙ্গ তুলে সম্বিত পাত্র জানান, মুর্শিদাবাদে আরএসএস কর্মী বন্ধুপ্রকাশ পাল, তাঁর আট মাসের গর্ভবতী স্ত্রী ও ছ'বছরের পুত্রকে হত্যা করা হয়েছে। এই প্রসঙ্গ তুলে কেউ কেন চিঠি লিখল না।

আরও পড়ুনঃ চেয়ারম্যান ছাড়াই যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সভা

পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির পক্ষ থেকে মৃত ব্যক্তির একটি অসংবেনশীল ছবি শেয়ার করে অভিযোগ আনা হয়েছে, গত চার দিনে আট জন খুন হয়েছেন রাজ্যে।রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর জানিয়েছেন, এই মামলাকে কোনও ভাবেই চাপা দেওয়া চলবে না। তিনি বলেন, ‘একে কার্পেটের তলায় লুকনো যাবে না।' একইসঙ্গে তিনি এই হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের নীরবতা নিয়েও হতাশা ব্যক্ত করেন।

তৃণমূলের পক্ষ থেকে রাজ্যপালের অভিযোগের জবাবে বলা হয়েছে, রাজ্যপাল ‘সাংবিধানিক লক্ষ্মনরেখা অতিক্রম' করেছেন। তাঁকে বলা হয়, তিনি যেন উত্তরপ্রদেশ, বিহার ও ত্রিপুরার অপরাধগুলির দিকে তাকান।

ইত্তেফাক/এসএইচএম