ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলায় অসময়ে তরমুজের চাষ হয়েছে। আর ফলনও হয়েছে বাম্পার, লাভবান হওয়ায় খুশি চাষিরা। সুস্বাদু এই তরমুজ চলে যাচ্ছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে।
উপজেলার উপদইল গ্রামের গোলাম রব্বানী রুবেল, শহীদুল্লাহ ও রেঞ্জু সরকার এবার প্রথম মালচিং পদ্ধতিতে ব্লাক বক্স ও সাগর কিং জাতের তরমুজের আবাদ করেছেন। ২ একর ৫০ শতক জমি জুড়ে ঝুলছে দুই থেকে তিন কেজি ওজনের তরমুজগুলো। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় গ্রীষ্মকালীন এই তরমুজের ফলন হয়েছে ভালো। তাই খেতজুড়ে শুধু তরমুজ আর তরমুজ শোভা পাচ্ছে। নতুন এই পদ্ধতিতে তরমুজের ফলন ভালো দেখে বিভিন্ন স্থান থেকে চাষিরা আসছেন দেখতে। অনেকে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন।
উপজেলার আরেক তরমুজ চাষি মোহাম্মদ আলী বলেন, আমরাও আগাম তরমুজের চাষ করি। কিন্তু মাচা পদ্ধতিতে কখনো আবাদ করা হয়নি। তাই দেখতে এসেছি। তিনি পুরো জমি ঘুরে দেখে বলেন, এ পদ্ধতিতে খরচ একটু বেশি হলেও পচন ধরে কম, বেশি ফলন হয় ও রোগবালাই কম হয়।
তরমুজ চাষি গোলাম রব্বানী রুবেল বলেন, তিনি শুধুমাত্র মৌসুমের সময় তরমুজ চাষ করতেন। কিন্তু এই প্রথম পাঁচ বিঘা জমিতে অসময়ে তরমুজ চাষ করেছেন। এতে খরচ হয় ৪লাখ টাকা। তবে দুই মাসের মাথায় চার বিঘা জমির তরমুজ ১২লাখ টাকায় বিক্রি করেছেন। এখনো এক বিঘা জমির তরমুজ অবিক্রিত রয়েছে। যা আরও ৩লাখ টাকায় বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গোলাম সারোয়ার বলেন, এবার পীরগঞ্জ উপজেলায় ৩২ হেক্টর জমিতে আগাম তরমুজের আবাদ হয়েছে, এর মধ্যে মাচা পদ্ধিতিতে আবাদ হয়েছে ২ একর ৫০ শতক জমিতে। এবার এ উপজেলা থেকে উত্পাদন হবে ৭শ টন তরমুজ। অসময়ে তরমুজ লাভজনক ফসল তাই আগামীতে এর আবাদ আরো বাড়বে বলে জানান তিনি।