থানায় যোগদানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে ওসির ‘এলাহি কাণ্ড’

সিলেটের ওসমানীনগর থানার ওসি এস এম আল মামুন এই থানায় তার যোগদানের ‘বর্ষপূর্তি’ পালন করলেন বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান ও জাঁকালো নৈশভোজের মধ্য দিয়ে। অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক দলের নের্তৃবৃন্দসহ শতাধিক লোক উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। থানা কম্পাউন্ডের ভেতরে সাউন্ড সিস্টেমের মাধ্যমে গভীর রাত পর্যন্ত চলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ফেসবুকে এই অনুষ্ঠানের ভিডিও ও স্থিরচিত্র ছড়িয়ে পড়ার পর উপজেলা জুড়ে আলোচনার ঝড় বইছে। অনেকে ফেসবুকে এই অনুষ্ঠান নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন। থানায় যোগদানের বর্ষপূর্তির এই জমকালো অনুষ্ঠানকে কেউ কেউ ‘এলাহি কাণ্ড’ হিসেবে মন্তব্য করেছেন। 

অনুষ্ঠানের শুরুতে শেরওয়ানি পরে বরের বেশে এসে বিশাল আকারের একটি কেক কাটেন ওসি আল মামুন। পরে সেখানে নামিদামি শিল্পীরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে পারফর্ম করেন। নৈশভোজে মাছ, মাংসসহ বহু ধরনের খাবার পরিবেশন করা হয়। কারো চাকরিতে যোগদানের বর্ষপূর্তীতে ওসমানীনগর থানায় এর আগে কখনো  এ ধরণের অনুষ্ঠান হতে দেখা যায়নি।

উপজেলা যুবলীগের সহসভাপতি ইকবাল আহমদ তার ফেসবুকে ওই অনুষ্ঠানের ছবি সম্বলিত একটি লেখা পোস্ট করেন। সেখানে একজন মন্তব্য করেন, ‘আমি মনে করছি ওসি সাহেবের বিবাহ বার্ষিকী’। আরেক আইডি থেকে মন্তব্য আসে ‘হয়তো ওনার ইনকাম বেশিই হচ্ছে’। আরেকজন লেখেন ‘ এটা মগের মুল্লুক বলে মনে হচ্ছে’। বালাগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা তুহিন মনসুর লেখেন, ‘আমার জীবনেও এমন অনুষ্ঠান দেখিনি, এই প্রথম দেখলাম। বালাগঞ্জ থানার পাশে আমার বাড়ি, বর্ষপূর্তিতে কোনো ওসিকে কেক কাটতে শুনিনি কোনোদিন। ’

এমন অনুষ্ঠান সম্পর্কে ওসমানীনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান চৌধুরী নাজলু বলেন, ‘ওসির দাওয়াত পেয়ে সেখানে গিয়েছিলাম। দাওয়াত খেয়ে চলে এসেছি।’ এ ধরনের অনুষ্ঠান আগে কখনো দেখেননি বলে তিনি স্বীকার করেন।    

ওসি এসএম আল-মামুন এ অনুষ্ঠানের আয়োজনের বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, সকলের সহযোগিতায় অনুষ্ঠানটি সুন্দর হয়েছে।

এদিকে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার বলেন, কর্মস্থলে যোগদানের বর্ষপূর্তীতে এ ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজনের কোন নিয়ম নেই। এ ব্যাপারে আমাকে কেউ কিছু বলেনি।

অপদিকে, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি কামরুল হাসান বিপিএম (বার) বলেন, ওসির যোগদানের এক বছর পুর্তীতে ওসমানীনগর থানায় এ ধরনের আয়োজনের বিষয়ে আমি কিছু জানি না। বিষয়টি খতিয়ে দেখবো।