ইরানের তেল ট্যাংকারে জোড়া ক্ষেপনাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শুক্রবার সৌদি আরবের জেদ্দা বন্দর থেকে ৬০ মাইল দূরে তেল ট্যাংকারে হামলা হয়। হামলার দায়িত্ব কেউ স্বীকার করেনি কিংবা ইরানও কাউকে দায়ী করেনি। তবে সন্দেহের শীর্ষ তালিকায় সৌদি আরব রয়েছে। এক্ষেত্রে সৌদি আরবের হামলার প্রমাণ পাওয়া গেলে আঞ্চলিক সংঘাত আরো বেড়ে যেতে পারে। আর হামলার পর গতকালই বিশ্ব বাজারে তেলের দাম বেড়ে গেছে। খবর বিবিসি ও ডেইলি মেইলের
ক্ষেপনাস্ত্র হামলার ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ন্যাশনাল ইরানিয়ান অয়েল কোম্পানির সাবিতি ও শিনোপা নামের দু’টি ট্যাংকারের। সাবিতি থেকে তেল চুইয়ে পড়ছে লোহিত সাগরে। জেদ্দা থেকে প্রায় ৬০ মাইল দূরে অপরিশোধিত তেলের এই ট্যাংকারে ক্ষেপনাস্ত্র হামলা হয় স্থানীয় সময় ভোর ৫টা নাগাদ। ভোর ৫ টা ২০ মিনিটে হামলা হয়েছে শিনোপা নামক ট্যাংকারে। দ্য ন্যাশনাল ইরানিয়ান ট্যাংকার কোম্পানি (এনআইটিসি) জানিয়েছে, জাহাজটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে পারস্য উপসাগরের দিকে যাত্রা করেছে জাহাজটি। ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভি হামলার কথা সীকার করলেও কারা এই হামলা করেছে সেই বিষয়ে কিছু জানায়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র হামলার জন্য সৌদি আরবকে সন্দেহ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন। বিষয়টি ইরানের কোনো পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়নি। যদিও ক্ষেপনাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে স্বীকার করেছে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়।
মধ্যপ্রাচ্যের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউএস নেভির মুখপাত্র পিট পাগানো ঘটনার কথা স্বীকার করে নিলেও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি। এর আগে হরমুজ প্রণালীতে একের পর এক ট্যাংকার ধ্বংস এবং সৌদি তেল স্থাপনায় হামলার ঘটনায় ইরানের দিকে আঙুল তুলেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরান এসব অস্বীকার করে আসছে। তবে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের ধারণা, আগের হামলার প্রতিশোধ নিতেই পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে।
বেড়েছে তেলের দাম
হামলার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দুই দশমিক ৩ ভাগ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৬০ দশমিক ৪৬ ডলারে বিক্রি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে অপরিশোধিত তেলের দাম দুই দশমিক এক ভাগ বেড়ে ৫৪ দশমিক ৬৯ ডলারে বিক্রি হয়েছে।