কাশ্মীর সংক্রান্ত ৩৭০ ধারা ভারত তুলে নেওয়ার পর আন্তর্জাতিক আঙিনায় পাকিস্তানকে কার্যত খোলাখুলি সমর্থন করেছিল চীন। জাতিসংঘের বৈঠকে কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে বেইজিংয়ের অবস্থানও কার্যত স্পষ্ট ছিল। এরপর লাদাখ সীমান্তে ভারতীয় ও চীনা সেনাবাহিনীর মধ্যে উত্তেজনার খবর আসে। এমন এক পরিবেশের মধ্যেই ভারত সফরে এসেছেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। তাকে রাজকীয় সংবর্ধনা দিয়েছে নয়াদিল্লি। খবর ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে ও এনডিটিভির
গতকাল চেন্নাই বিমানবন্দরে শি জিনপিংকে স্বাগত জানান তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল ও মুখ্যমন্ত্রী। সেইসঙ্গে বিমানবন্দরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমেও চীনের প্রেসিডেন্টকে অভ্যর্থনা জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে খোলামেলা পরিবেশে সংলাপই এই সফরের সারমর্ম। বিমানবন্দরে শি পা রাখার কিছুক্ষণের মধ্যেই টুইটারে তাকে স্বাগত জানান নরেন্দ্র মোদি। বিমানবন্দর থেকে মোটর শোভাযাত্রা সহকারে মমল্লপুরমে নিয়ে যাওয়া হয়। সন্ধ্যায় একসঙ্গে পাশাপাশি বসে ভারতীয় নৃত্যকলা উপভোগ করেন শি জিনপিং ও নরেন্দ্র মোদি। অন্ধকার নামতেই অপরূপ শোভা দেখা যায় মমল্লপুরমের মন্দিরের। এখানেই নৈশভোজ সারেন দুই নেতা। চীনা প্রেসিডেন্টের জন্য ছিল দক্ষিণ ভারতীয় নানা সুস্বাদু পদের আয়োজন। বিভিন্ন স্থাপত্য ঘুরে দেখে আলোচনার ফাঁকে ডাবের পানিতে তৃষ্ণা নিবারণ করেন দুই রাষ্ট্রনেতা।
সরকারি সূত্র থেকে প্রাপ্ত খবরানুসারে এই বৈঠকে কোনো রকম চুক্তিতে স্বাক্ষর করা হবে না বা কোনো যৌথ বিবৃতিও জারি করা হবে না। এই বৈঠকের প্রধান উদ্দেশ্য হলো- দুই দেশের মধ্যে উচ্চস্তরের সম্পর্ক আরো দৃঢ় করে গড়ে তোলা এবং মূল বিষয়গুলো নিয়ে নিজেদের মধ্যে মত বিনিময় করা। সূত্র জানিয়েছে, সন্ত্রাসবাদে অর্থ জোগানো, সন্ত্রাস শিবিরে প্রশিক্ষণ ও সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীগুলোকে যে কোনোরকম সহায়তা দেওয়া, আলোচনার অন্যতম মূল বিষয় হবে এগুলোও। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা এবং সীমান্ত সম্পর্কিত সমস্যা নিয়েও কথা হবে।
এদিকে গতকাল রাতে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ভারত জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী মোদি ও চীনা প্রেসিডেন্ট শি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে এবং বাণিজ্য সহযোগিতা বিষয়ে ঐকমত্যে পৌছেছেন।
আজ দুই রাষ্ট্রনেতার দ্বিপাক্ষিক আলোচনা হবে ‘তাজ ফিশারম্যানস কোভ রিসর্ট অ্যান্ড স্পা’তে। দু’দিনের এই ইভেন্ট যেন ১৬০০ বছর আগে চীন ও ওই উপকূলীয় শহরের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তির সেই যুগকে ফিরে দেখা। পল্লব রাজাদের সঙ্গে চীনের বাণিজ্যের সাক্ষী এই মামাল্লাপুরম। সেই সময় এই শহর ছিল জমজমাট। চীন ও দক্ষিণ এশিয়ায় রফতানি ও আমদানির কেন্দ্র ছিল মামাল্লাপুরম। এটা চীনের সিল্ক রুটেরও অংশ ছিল। আজ চেন্নাই থেকে নেপালে যাবেন শি জিনপিং।