মধুমতির ভাঙন
তরিকুল ইসলাম, ফরিদপুর প্রতিনিধি
ফরিদপুরের মধুমতির ভাঙনে আলফাডাঙ্গা উপজেলার পাঁচুরিয়া, গোপালপুর ও টগরবন্দ ইউনিয়নের তিনটি স্কুল, একটি মাদ্রাসা, মসজিদ, ঈদগাহ, কবরস্থান, একটি গুচ্ছগ্রাম, পাকা সড়কসহ প্রায় ৩ শতাধিক বসতবাড়ি নদীগর্ভে চলে গেছে। গত ১৫ দিনে এই এলাকার আরো ৩ শতাধিক পরিবার ঘর ভেঙে অন্যস্থানে আশ্রয় নিয়েছে।
আলফাডাঙ্গা উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এনাম হাসান শিপন জানান, তার ইউনিয়নের পাঁচটি গ্রামে দুই কিলোমিটার জুড়ে নদীর এই ভাঙন শুরু হয়েছে। তিনি জানান, শিখাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দারুল সালাম দাখিল মাদ্রাসা, একটি মসজিদ ও বড়ো গোরস্থান (কবরস্থান) নদীগর্ভে চলে গেছে। এছাড়াও এই ইউনিয়নের একটি গুচ্ছগ্রাম ও আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৬৫টি বাড়ি নদীতে চলে গেছে। আংশিক ভাঙনের শিকার হয়েছে শিকারপুর সড়ক ও চরডাঙ্গা-চরআজমপুর সড়কটি।
গোপালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এনামুল হাসান জানান, বাজড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি মসজিদ নদীগর্ভে চলে গেছে। এ এলাকার অর্ধশত বসতবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
পাঁচুরিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান সরদার জানান, দক্ষিণ পাঁচুরিয়া পুরো গ্রাম বিলীন হয়ে গেছে। পশ্চিম চর-নারানদিয়া গ্রামের প্রাইমারি সরকারি স্কুল ভবন থেকে মাত্র ২০ হাত দূরে অবস্থান করছে ভাঙন। উত্তর চর-নারানদিয়া গ্রামের কয়েক শ বাড়িঘর, ফসলি জমি, বাঁশতলা বাজার থেকে বোয়ালমারী উপজেলার যাতায়াতের পাকা সড়কের তিন কিলোমিটার নদীগর্ভে চলে গেছে।
পশ্চিম চর-নারানদিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জয়নাব খাতুন জানান, আমার বিদ্যালয়টি চরম ঝুঁকিতে রয়েছে, নদী থেকে ২০ হাত দূরে স্কুলের ভবন, অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের ঠিকমতো স্কুলে পাঠাচ্ছে না ।
আলফাডাঙ্গা উপজেলার সহকারী কমিশনার ভূমি আসাদুজ্জামান বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ভাঙন রোধে পাউবোর মাধ্যমে বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে, এরই মধ্যে ২২৬টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে সরকারি সহায়তা দেওয়া হয়েছে, আরো সহায়তা দেওয়ার তালিকা তৈরি করা হচ্ছে।’
আলফাডাঙ্গা উপজেলা চেয়ারম্যান এ কে এম জাহিদ হাসান বলেন, ‘দ্বিতীয় দফায় মধুমতির পানি বৃদ্ধির ফলে এ উপজেলার তিনটি ইউনিয়নে ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙনকবলিত মানুষগুলো অসহায়ের মতো বসতবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছে। ’
ফরিদপুরের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুলতান মাহমাদ বলেন, ‘নদীতে প্রচুর স্রোত, এর মধ্যে জরুরি কাজ করা কঠিন। স্রোত না কমলে কাজ করা যাবে না।’ তিনি বলেন, ‘মধুমতির ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ করতে ব্যয় হবে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা। কিন্তু প্রয়োজন মতো অর্থ বরাদ্দ আমরা পাচ্ছি না। এটাই সমস্যা।’
ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকার সাংবাদিকদের জানান, জেলার পদ্মা, মধুমতি ও আড়িয়াল খাঁর ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙন রোধে প্রাথমিকভাবে কাজ শুরু হয়েছে, আগামী শুকনো মৌসুমে স্থায়ীভাবে কাজের ব্যাপারে চেষ্টা চলছে।