উত্তর-পূর্ব সিরিয়ায় কুর্দি মিলিশিয়া এবং তুরস্কের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে তীব্র যুদ্ধ চলছে। বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, ওই অঞ্চলটিতে মোতায়েন থাকা মার্কিন সৈন্যদের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক আদেশে প্রত্যাহার করে নেবার পরই বুধবার থেকে সেখানকার কুর্দি মিলিশিয়াদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে তুর্কি বাহিনী এবং সেই অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তুরস্ক দাবি করেছে, রাস আল-আইন শহরটি তারা দখল করে নিয়েছে, কিন্তু কুর্দিরা এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।
ব্রিটেন-ভিত্তিক সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস নামে একটি মানবাধিকার সংস্থা বলছে, সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ১২০ জনেরও বেশি যোদ্ধা নিহত হয়েছে। বেসামরিক লোক নিহত হয়েছে ২০ জন এবং এক লাখ লোক তাদের বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়েছে। উত্তর-পূর্ব সিরিয়ার রাস আল-আইন শহরটির ওপর কামানের গোলা বর্ষণ করা হচ্ছে, বিভিন্ন জায়গা থেকে আকাশে উঠছে ধোঁয়ার কুণ্ডলী। প্রচন্ড গোলাগুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে। তুরস্কের যুদ্ধবিমানগুলো আকাশে চক্কর দিচ্ছে ।
এটা স্পষ্ট যে, উত্তর-পূর্ব সিরিয়া থেকে মার্কিন সৈন্যদের প্রত্যাহার করে নেবার জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সিদ্ধান্তই তুরস্কের এ অভিযানের সূচনা করে। এমনকি কোবানি শহরের কাছে যে মার্কিন ঘাঁটি আছে- সেখানেও শুক্রবার সন্ধ্যায় তুরস্কের কামানের গোলা এসে পড়ে। তবে এতে কেউ আহত হয়নি।
কুর্দি মিলিশিয়ারা ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে যুদ্ধে মার্কিন বাহিনীকে সহায়তা করেছিল, তবে তুরস্ক এই মিলিশিয়াদের সন্ত্রাসী বলে মনে করে। মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ফলে তাদের বিরুদ্ধে তুরস্কের অভিযান চালানোর পথ খুলে যায়। এর পর মার্কিন প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্ত তার প্রশাসনের ভেতরে এবং রিপাবলিকান নেতাদের দিক থেকেও ব্যাপক সমালোচনার সম্মুখীন হয়। ফলে এখন তুরস্কের এই অভিযান থামানোর জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভেতর থেকেই চাপ বাড়ছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মার্ক এসপার এ অভিযানের ‘গুরুতর পরিণতির’ ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়েছেন এবং অর্থমন্ত্রী স্টিভেন মেনুশিন নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের সম্ভাবনার কথা বলেছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইতিমধ্যে বলেছেন যে, তিনি তুরস্ক এবং কুর্দিদের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চান। কিন্তু তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইপে এরদোয়ান বলেছেন, সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে। তিনি চাইছেন উত্তর সিরিয়ায় কুর্দি মিলিশিয়ামুক্ত একটি নিরাপদ এলাকা তৈরি করতে। যেখানে সিরিয়ান শরণার্থীদের বসতি গড়ে তোলা হবে। সেনা প্রত্যাহার করার জন্য কুর্দি নেতারা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তাদের ‘পিঠে ছুরি মারার’ অভিযোগ এনেছেন।