কম্পিউটার এখন সময়ের অন্যতম প্রয়োজনীয় একটি ডিভাইস। আগেকার আমলের মতো এটি আর কেবল গবেষণার কাজের কোনো যন্ত্র নয়। দৈনন্দিন জীবনের সব ধরনের কাজের সঙ্গে এখন জড়িয়ে রয়েছে কম্পিউটার। আর তাই কম্পিউটারের ব্যবহারও দিন দিন বাড়ছেই। যারা নতুন কম্পিউটার কিনেছেন তাদের কাজে লাগবে, এমন কিছু পরামর্শ নিয়ে এ লেখা—
অপ্রয়োজনীয় সফটওয়্যার দূর করুন
দোকান থেকে পিসি কিনলে অনেক সময়ই দেখা যায় দোকান থেকেই প্রচুর পরিমাণে সফটওয়্যার ইন্সটল করে দেওয়া রয়েছে, যার বেশিরভাগই হয়ত আপনার কোনো কাজে লাগবে না। এর মধ্যে থাকতে পারে নানা ধরনের মিডিয়া প্লেয়ার, অ্যান্টিভাইরাস, বেশ কয়েকটা ওয়েব ব্রাউজার এবং কাজের এবং কাজের চাইতেও বেশি অকাজের প্রোগ্রাম। এর অনেকগুলোই আবার থাকবে ট্রায়াল ভার্সন। সেক্ষেত্রে পিসি ওপেন করা মাত্রই এসব ট্রায়াল ভার্সনের নানা ধরনের নোটিফিকেশনের পেছনে সময় দিতে হবে আপনাকে। কাজেই আপনার প্রথম কাজ হবে আপনার পিসি থেকে অপ্রয়োজনীয় সফটওয়্যার এবং প্রোগ্রামগুলো দূর করা। কন্ট্রোল প্যানেল থেকে বাছাই করে দারকারী সফটওয়্যারগুলো রেখে বাকিগুলো আনইন্সটল করে দিন। নিজে নিজে না করতে পারলে বা সাহস না পেলে কম্পিউটার ব্যবহার করে থাকে, এমন কোনো বন্ধুকে ডেকে নিন। এ ছাড়া পিসি ডিক্র্যাপিফায়ার সফটওয়্যারটিও আপনাকে সহায়তা করতে পারে। www.pcdecrapifier .com/download সাইট থেকে নামিয়ে নিতে পারেন এটি। আর এটি ইন্সটল করে এর নির্দেশনাগুলো অনুসরণ করলেই এটি পিসি থেকে জাংক সফটওয়্যারগুলো দূর করে দেবে।
ইন্সটল করুন অ্যান্টিভাইরাস
পিসি কিনে নেওয়ার পরেই আপনার খুব ভালো একটি অ্যান্টিভাইরাস ইন্সটল করে নেওয়া উচিত। সময়ের সাথে কম্পিউটারের ক্ষেত্রে যেমন উন্নতি হয়েছে, ভাইরাসগুলোও তেমনি উন্নত হয়েছে। শুধু ইন্টারনেট থেকেই নয়, আপনার বন্ধুদের পিসি থেকেও পেনড্রাইভ বা অন্য কোনো মাধ্যমে আপনার পিসিতে হামলা হতে পারে ভাইরাসের। আর তাই ভাইরাসের সাথে লড়াই করতে হলে আপনার ভালো কোনো অ্যান্টিভাইরাসের শরণাপন্ন হওয়ার কোনো বিকল্প নেই। অ্যান্টিভাইরাসের ক্ষেত্রে এখন আমাদের দেশে একটি পিসি’র জন্য ১ হাজার বা ১২শ টাকার মধ্যেই অ্যান্টিভাইরাসগুলো কিনতে পাওয়া যায়। নরটন, ম্যাকঅ্যাফি, ক্যাসপারস্কি, পান্ডাসহ বেশকিছু অ্যান্টিভাইরাস পাবেন কম্পিউটার দোকানে। তবে বিনামূল্যের অ্যান্টিভাইরাসও ব্যবহার করতে পারেন। সেক্ষেত্রে ইন্টারনেটের সংযোগ থাকলে অ্যাভিরা বা এভিজি’র বিনামূল্যের সংস্করণ ডাউনলোড করে নিয়ে আপডেট করে নিবেন। ইন্টারনেট সংযোগ থাকলে এগুলো নিজে থেকেই আপডেট হয়ে যায় এবং পিসিকে ভাইরাস থেকে মুক্ত রাখে। অ্যান্টিভাইরাসের ক্ষেত্রে একটি বিষয় অবশ্যই মনে রাখবেন, পিসিতে কখনই একসাথে একাধিক অ্যান্টিভাইরাস ইন্সটল করবেন না।
ড্রাইভের পার্টিশন
অনেক সময় পিসিতে অপারেটিং সিস্টেম সেটআপ দেওয়ার সময় পুরো হার্ডডিস্ককে একটি মাত্র পার্টিশন করে দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে ওই একটি ড্রাইভেই থাকে অপারেটিং সিস্টেম, সফটওয়্যার এবং অন্যান্য যাবতীয় ফাইল। অপারেটিং সিস্টেমটি কোনো কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হলে নতুন করে সেটআপ দিতে হলে ওই ড্রাইভে রক্ষিত তথ্যগুলো হারিয়ে যাবে। তাই হার্ডডিস্কে একাধিক পার্টিশন রাখা ভালো। এর যে ড্রাইভে অপারেটিং সিস্টেম রয়েছে সেই ড্রাইভে প্রোগ্রামগুলো ছাড়া আর অন্যকিছু না রাখাই ভালো। সেক্ষেত্রে অপারেটিং সিস্টেম নতুন করে দিতে হলেও অন্যান্য পার্টিশনে তথ্যগুলো সুরক্ষিত থাকবে। আপনার হার্ডডিস্কে যদি এরকম একটি মাত্র পার্টিশন থাকে, তাহলে তাতে নতুন পার্টিশন তৈরি করুন। উইন্ডোজ ৭-এ এই কাজটি করতে হলে আপনাকে কন্ট্রোল প্যানেল থেকে যেতে হবে ‘System and Security’তে। এখানে আপনি পাবেন ‘Administrative Tools’ ক্যাটাগরিতে ‘Create and Format Partitions’ অপশনটি। এখানে ক্লিক করলেই ডিস্ক ম্যানেজমেন্ট ইউটিলিটিওপেন হবে।
ডিস্ক ম্যানেজমেন্টে গিয়ে ‘সি’ ড্রাইভে মাউসের ডান বাটন ক্লিক করে ‘Shrink Volume’ নির্বাচন করলেই এই ড্রাইভে আপনি কী পরিমাণ স্থান রাখতে চান, তা নির্বাচন করার অপশন আসবে। হার্ডডিস্কের স্টোরেজ এবং আপনি কী ধরনের এবং কী পরিমাণ প্রোগ্রাম ব্যবহার করবেন তার উপর নির্ভর করে ৫০ থেকে ১০০ জিবি এই ড্রাইভে রাখলেই হয়। পরিমাণ নির্দিষ্ট করে ‘Ok’ চাপলেই বাকি জায়গাগুলো ‘Unallocated Space’ স্পেস হিসেবে প্রদর্শিত হবে। পরে এতে মাউসের ডান বাটন ক্লি করে ‘Create New Partition’ দিয়ে নতুন পার্টিশন করতে পারবেন। আবার এই ‘Unallocated Space’গুলো দিয়ে একাধিক নতুন পার্টিশনও তৈরি করতে পারবেন।
স্টার্টআপ পরিচ্ছন্ন রাখুন
পিসির বুট টাইমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে স্টার্টআপ প্রোগ্রাম। পিসিতে যত বেশি স্টার্টআপ প্রোগ্রাম রাখা হয়, বুট টাইম তত বেশি হয়। মানে পিসি চালু হতে তত বেশি সময় লাগে। তাই স্টার্টআপ-এ খুব বেশি প্রোগ্রাম না রাখাই ভালো। উইন্ডোজে প্রোগ্রামের তালিকায় গিয়ে ‘Startup ’-এ ক্লিক করলেই জানতে পারবেন কোন কোন প্রোগ্রামগুলো আপনার স্টার্টআপ-এ চলছে। এখানে হয়ত কিছু প্রোগ্রাম পাবেন যেগুলো আপনার নিত্যপ্রয়োজনের নয়। এগুলোকে স্টার্টআপ থেকে বাদ দিতে আপনার উইন্ডোজ ৭-পিসির ‘Start’ বাটনে গিয়ে সার্চ বক্সে ‘msconfig’ লিখলে যে অ্যাপ্লিকেশনটি আসবে তাতে ক্লিক করুন। এরপর কনফিগারেশনের উইন্ডোতে গিয়ে ‘Startup ’ ট্যাবটি খুলুন। এখানে স্টার্টআপ প্রোগ্রামগুলোর তালিকা থেকে কোনগুলো সবসময় চলবে সেগুলো আগের মতোই রেখে বাকিগুলোর টিক চিহ্ন তুলে দিন। তাহলেই সেগুলো স্টার্টআপ-এ আর চলবে না। ফলে এগুলো পিসি চালু হওয়া মাত্রই আর রান করবে না এবং পিসির বুট টাইমও কমে আসবে এবং পিসি চালু করলে তা অল্প সময়েই সক্রিয় হয়ে উঠবে।
আপডেট রাখুন ড্রাইভার
আপনার পিসি’র হার্ডওয়্যারগুলো আপডেট রাখলে তা আপনার পিসির পারফরম্যান্সকে নিঃসন্দেহে বাড়িয়ে দেবে। পিসির অপটিমাম সেটিংয়ের জন্য আপডেট রাখতে হবে হার্ডওয়্যারগুলোর ড্রাইভার। আপনার উইন্ডোজ পিসির ড্রাইভারগুলো আপডেট আছে কি না, তা দেখার জন্য ব্যবহার করতে পারেন ডিভাইসডক্টর নামের সফটওয়্যার। http://devicedoctor.com সাইট থেকে বিনামূল্যের সংস্করণের ডিভাইসডক্টর ডাউনলোড করে নিতে পারবেন। এটি রান করালেই আপনাকে জানিয়ে দেবে আপনার কোন কোন ড্রাইভারের আপডেট প্রয়োজন। এই তালিকা অনুযায়ী ওই হার্ডওয়্যারের নির্মাতার ওয়েবসাইটে গিয়েই ওই হার্ডওয়্যারের আপডেট ড্রাইভার নামিয়ে নিতে পারবেন। তাহলেই আপনার পিসি পারফরম্যান্সের দিক থেকে অনেকটাই এগিয়ে যাবে।
তৈরি করুন রিকভারি ডিস্ক
বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পিসির সাথে রিকভারি ডিস্ক দেওয়া থাকে না। তবে আপনি যদি উইন্ডোজ ৭ ব্যবহার করেন, তাহলে নিজেই একটি রিকভারি ডিস্ক তৈরি করে নিতে পারবেন। এর জন্য অবশ্য আপনার থাকতে হবে একটি ডিভিডি রাইটার। ডিভিডি রাইটারে একটি ব্ল্যাংক ডিভিডি ঢুকিয়ে Start button-এ ক্লিক করে All Programs থেকে Maintenance ফোল্ডারে ক্লিক করতে হবে। এখান থেকে নির্বাচন করতে হবে ‘System Repair Disk’। এরপর নির্দেশনাগুলো একে একে অনুসরণ করলেই তৈরি হয়ে যাবে আপনার রিকভারি ডিস্ক।