তথ্যপ্রযুক্তি তথা আইসিটি খাতে শিক্ষিতদের মধ্যে বেকারত্বের হার তুলনামূলক কম। দেশে প্রচলিত শিক্ষায় স্নাতক পাশ করা শিক্ষার্থীদের মাত্র ৪০ ভাগ চাকরিতে নিয়োগ পেলেও কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং অথবা তথ্যপ্রযুক্তি খাতে শিক্ষিতদের চাকরিতে নিয়োগের হার ৭৭ শতাংশ। যারা বেকার তাদের মধ্যে অর্ধেক উচ্চ বেতনের চাকরির জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছেন, অথবা প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজেকে প্রস্তুত করছেন। বাংলাদেশের প্রচলিত শিক্ষায় উচ্চ শিক্ষিত এক-তৃতীয়াংশ তরুণ যেখানে এক থেকে দুই বছর বেকার থাকছেন, সেখানে কম্পিউটার সায়েন্সে পড়া ২০ দশমিক ৬ ভাগ শিক্ষার্থী স্নাতক সম্পন্ন করার এক থেকে তিন মাসের মধ্যে চাকরি পেয়ে যাচ্ছেন।
বাংলাদেশের কম্পিউটার সায়েন্স ও তথ্য প্রযুক্তি বিভাগের শিক্ষার্থীদের তথ্য নিয়ে একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। ‘বাংলাদেশ : কম্পিউটার অ্যান্ড সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং টারশিয়ারি এডুকেশন ইন ২০১৮’ শীর্ষক প্রতিবেদনটিতে এমন তথ্য উঠে এসেছে। মূলত উচ্চ শিক্ষায় কম্পিউটার অ্যান্ড সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং স্নাতক পাশ করাদের কর্মসংস্থানের অবস্থা, চাকরি বাজারে তাদের চাহিদা, অন্য শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে তুলনা করতে এই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। এতে বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের শীর্ষ নয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স ও তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের শিক্ষার্থীদের সাক্ষাত্কার নেওয়া হয়েছে।
জরিপে উঠে এসেছে, কম্পিউটার সায়েন্সে পড়ে ৭৭ ভাগ গ্র্যাজুয়েট কর্মে নিয়োজিত রয়েছেন। বাকিরা চাকরি খুঁজছেন এবং বড়ো অংশ উচ্চ শিক্ষার জন্য চেষ্টা করছেন। স্নাতক শেষ করে এক থেকে তিন মাসের মধ্যে চাকরি পাচ্ছেন ২০ দশমিক ৪ ভাগ। এক বছরের মধ্যে চাকরি পাচ্ছেন সাড়ে ১০ ভাগ। সবচেয়ে বেশিসংখ্যক (৩৫.৫%) এক বছরের পরে চাকরি পাচ্ছেন। তবে মেয়েদের মধ্যে কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতকদের চাকরি করার প্রবণতা অনেক কম, মাত্র ৫৮ দশমিক ৬ ভাগ। এই খাতেও বেতন বৈষম্য লক্ষ্য করা গেছে। মেয়েদের তুলনায় ছেলেরা প্রায় ১৩ শতাংশ বেশি বেতন পাচ্ছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এক জন কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার একটি ভালো চাকরি জোগাড় করার জন্য গড়ে ১৭ বার ইন্টারভিউ দিয়েছেন। চাকরিতে যোগ না দেওয়ার কারণ হিসেবে প্রায় ৭০ ভাগ উত্তরদাতা বলেছেন, কম বেতনের কারণে তারা চাকরিতে যোগ দেননি। কাজের পরিবেশ ভালো না বলেছেন ৪৬ ভাগ। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বেশিরভাগ শিক্ষার্থী বলেছেন, তাদের শিক্ষাউপকরণ এবং অন্যান্য সুবিধা বাড়ানো প্রয়োজন। চাকরি পাওয়াদের মধ্যে দেখা গেছে ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনলজি গ্র্যাজুয়েটদের মধ্যে কর্মসংস্থান হার সবচেয়ে বেশি ৯২.৪%। এরপর বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনলজি (বুয়েট) ৯১.১%। ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি ৮৭.১% এবং ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি ৮৩.৮%। সিএসই গ্র্যাজুয়েটদের মধ্যে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে এই হার সবচেয়ে কম, মাত্র ৫৭.৬%।
কম্পিউটার সায়েন্স বা তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগে পাশ করা শিক্ষার্থীরা শুরুতেই গড়ে মাসিক বেতন পাচ্ছেন ৩৮ হাজার ৭০০ টাকা। পাশ করাদের মধ্যে গড়ে বেশি বেতনে (প্রায় ৫২ হাজার) চাকরি পাচ্ছেন ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনলজির ছাত্ররা। সবচেয়ে কম পাচ্ছেন যশোরের মাত্র ২৫ হাজার ৩০০ টাকা। এই বিভাগে পড়াশোনা করে মাত্র ২৩ দশমিক ৮ ভাগ শিক্ষার্থী স্কলারশিপ পাচ্ছে। সবচেয়ে বেশি পাচ্ছে ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনলজি (৭০.৭%)।