আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র ও খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ নাসিম এমপি বলেছেন, একাত্তরের পরাজিত শক্তি এখনো ষড়যন্ত্র করেই যাচ্ছে। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা যত সফল হচ্ছেন, চক্রান্ত তত বেশি হচ্ছে। গতকাল রবিবার বিকেলে রাজশাহী শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজশাহী বিভাগীয় প্রতিনিধি সভায় সভাপতির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
নাসিম আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বুয়েটের আবরার ফাহাদের খুনিদের গ্রেফতার করা হয়েছে। দ্রুত বিচার আইনে আবরার হত্যার বিচারের ঘোষণার পরও উসকানি দেওয়া হয়েছে। বিএনপি-জামায়াতের চক্রান্ত থেমে নেই। কিন্তু চক্রান্তকারীরা কখনো সফল হবে না। তাদের পরাজিত করে আমরা আবারো সফল হবো। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, জুয়ারি, ভূমিদস্যু, টেন্ডারবাজ, দুর্নীতিবাজ ও মাদক ব্যবসায়ীরা সাবধান। শেখ হাসিনার অ্যাকশন শুরু হয়েছে, কোনো অপকর্মকারী রেহাই পাবে না। এর আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ছাত্ররাজনীতি বন্ধের পক্ষে নয়। যারা ছাত্ররাজনীতির নামে অপকর্ম করবে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। রাজনীতিবিদদের অধিকাংশেরই হাতেখড়ি ছাত্র রাজনীতি থেকে। কাজেই মাথাব্যথা হলে মাথা কেটে ফেলা সমাধান নয়।
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, খারাপ লোকের আমাদের দরকার নেই। দুষ্ট গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল ভালো। ক্লিন ইমেজের পার্টি দরকার, আগামী জাতীয় কাউন্সিলকে সামনে রেখে দলকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নতুন মডেলে ঢেলে সাজাতে চাই। জাতীয় কাউন্সিলের আগেই তৃণমূলের মেয়াদউত্তীর্ণ সব কমিটি করতে হবে। আমরা স্মার্ট আওয়ামী লীগ চাই। যুবলীগের চেয়ারম্যান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চেয়ারম্যান নজরদারিতে আছে কিনা তা পরে জানা যাবে। তিনি আত্মগোপনে নেই। তবে যেসব যুবলীগের নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে, তারা নজরদারিতে আছেন।
মোহাম্মদ নাসিমের সভাপতিত্বে এবং দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় যুগ্মসাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, রাসিক মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যাবিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা, কেন্দ্রীয় সদস্য নুরুল ইসলাম ঠান্ডু প্রমুখ।
বক্তব্য রাখেন রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার, নওগাঁ জেলার সভাপতি আব্দুল মালেক, জয়পুরহাট জেলার সাধারণ সম্পাদক সোলায়মান হোসেন, নাটোর জেলার সাধারণ সম্পাদক সফিকুল ইসলাম শিমুল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাইন উদ্দিন মন্ডল, সিরাজগঞ্জ জেলার সভাপতি আব্দুল লতিফ বিশ্বাস, পাবনা জেলার সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক প্রিন্স ও বগুড়া জেলার সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান। নেতারা বিভিন্ন অভিযোগ এবং দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের চিত্র তাদের বক্তব্যে তুলে ধরেন। এছাড়া প্রতিনিধি সভায় খাদ্যমন্ত্রী সাধনচন্দ্র মজুমদার, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইয়েদ আহমেদ পলক ও রাজশাহী বিভাগ থেকে নির্বাচিত দলের এমপিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।