বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) আগামী ১৮ ও ১৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ১ম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়া চলমান এ সংকটে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মুরশীদ আবেদীনকে তার দাপ্তরিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
গতকাল রবিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর কমিটির সদস্য প্রফেসর ড. মো. মুহসিন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে একথা জানানো হয়। এদিকে উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, ট্রেজারার ও রেজিস্ট্রার, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক পদ শূন্য থাকায় চরম সংকট দেখা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে।
শিক্ষার্থীদের টানা আন্দোলনের মুখে গত ২৬ মে তত্কালীন উপাচার্য প্রফেসর ড. এস এম ইমামুল হক ছুটিতে যান। এরপর ট্রেজারার একে এম মাহবুব হাসানকে উপাচার্যের দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু গত ৭ অক্টোবর এ বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য একে এম মাহবুব হাসানের ট্রেজারার মেয়াদ শেষ হওয়ায় তিনিও বিদায় নেন। এতে করে সংকট প্রকট হতে শুরু করে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড মুখ থুবড়ে পড়ে।
শিক্ষক, শিক্ষার্থীরা জানান, উপাচার্যসহ অপর গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো শূন্য থাকায় যে যার মতো দায়িত্ব পালন করছেন। দলাদলিতে ভেঙে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাঠামো। পূজার ছুটি কাটিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার পর সকলেই যেন ভিসি, এমনটাই মনে হচ্ছে কার্যক্রমে। কেউ কাউকে মানছে না এবং কেউ কারোর কথা শুনছে না।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ভূ-তত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান আবু জাফর মিয়া ইত্তেফাককে বলেন, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিসহ গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য থাকায় একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম মুখ থুবড়ে পড়েছে। এমতাবস্থায় অতি দ্রুত ভিসি নিয়োগ দিয়ে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক অগ্রযাত্রাকে সমুন্নত রাখতে না পারলে পরবর্তীতে তা কাটিয়ে ওঠা কঠিন হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানিয়েছে, নির্বাহী প্রকৌশলী মুরশীদ আবেদীনের বিরুদ্ধে সরকারি অসঙ্গতিপূর্ণ কাগজপত্রে বিভিন্ন বিল দেওয়ার জন্য অর্থ ও হিসাব দপ্তরের সহকারী পরিচালক আতিকুর রহমানকে বিভিন্নভাবে হুমকি ও অনৈতিক চাপ প্রয়োগ করার অভিযোগ উঠে।
সম্প্রতি এ অভিযোগ আতিকুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানান। এর পরপরই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ ঘটনার তদন্তে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে।
আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁওয়ে এবার জনতার গণপিটুনি খেল পুলিশ!
এসব বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী মুরশীদ আবেদীন জানান, অর্থ ও হিসাব দপ্তরের সহকারী পরিচালক পদে আতিকুর রহমান নামে কেউ নেই। তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনে এ ধরনের চিঠি প্রস্তুত করা হয়েছে যা সঠিক তদন্ত হলে বেরিয়ে আসবে।
ইত্তেফাক/এএন