খুলনায় আওয়ামী লীগ বিএনপির নতুন প্রার্থীরা প্রচারে এগিয়ে

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দের পর খুলনায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা প্রচার-প্রচারণায় মাঠে নেমে পড়েছেন। এবার খুলনায় প্রবীণদের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের পাঁচজন নতুন প্রার্থী ভোটের লড়াইয়ে নেমেছেন। অন্য প্রার্থীদের তুলনায় এই পাঁচ প্রার্থীর জয়-পরাজয় নিয়ে ভোটারদের মধ্যে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

খুলনার ছয়টি সংসদীয় আসনে আওয়ামী লীগের একেবারেই নতুন দুই প্রার্থী ভোটের মাঠে লড়ছেন। এরা হলেন খুলনা-২ (সদর-সোনাডাঙ্গা) আসনে শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল ও খুলনা-৬ (কয়রা-পাইকগাছা) আসনে আকতারুজ্জামান বাবু। শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েলের দলীয় কোনো পদ নেই। তিনি বঙ্গবন্ধুর ভ্রাতুষ্পুত্র ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই। শেখ জুয়েলের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু। মঞ্জু এ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন।

অপরদিকে আওয়ামী লীগের আরেক নতুন মুখ আকতারুজ্জামান বাবু জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। এর আগে তিনি জেলা ছাত্রলীগ ও জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। বাবুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী খুলনা মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা আবুল কালাম আজাদ। তবে বাবুর পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মধু। জাতীয় পার্টি এ আসনে জোটের বাইরে নির্বাচন করছে।

বিএনপির নবীন প্রার্থীরা হলেন খুলনা-৩ (খালিশপুর-দৌলতপুর-খানজাহান আলী) আসনে ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি রকিবুল ইসলাম বকুল, খুলনা-৪ (রূপসা-দিঘলিয়া-তেরখাদা) আসনে ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় তথ্যবিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল। হেলাল এর আগে ঢাকা-১৮ আসনে নির্বাচন করলেও নিজ জন্মস্থানে এটাই তার প্রথম নির্বাচন।

খুলনা-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী বকুলের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট প্রার্থী সাবেক প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান এমপি। অপরদিকে খুলনা-৪ আসনে আজিজুল বারী হেলালের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ প্রার্থী শিল্পপতি ও জাতীয় দলের সাবেক কৃতী ফুটবলার আব্দুস সালাম মুর্শেদী। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির শক্তিশালী দুই প্রার্থীর বাড়িই রূপসা উপজেলায়। ফলে এ আসনের নির্বাচন জমে উঠেছে সবচেয়ে বেশি।

এ ছাড়া, খুলনা-৬ (কয়রা-পাইকগাছা) আসনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছেন খুলনা মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা আবুল কালাম আজাদ।

নিজেদের যোগ্যতা সবার সামনে তুলে ধরতে প্রচারণার শুরুতেই বিভিন্ন কৌশল নিয়েছেন প্রার্থীরা। তবে প্রবীণ প্রার্থীদের তুলনায় নবীন প্রার্থীরা নির্বাচনী কৌশল ও প্রচারণায় এগিয়ে রয়েছেন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রার্থীরা ভোটারের মন জয় করতে দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। ভোটের পাশাপাশি তারা সকলের দোয়া চাচ্ছেন। নতুন ভোটার ও তরুণ সমাজকে গুরুত্ব দিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন নবীন এসব প্রার্থী। নবীন এসব প্রার্থীদের হয়ে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা রকম পোস্ট দিচ্ছেন তাদের কর্মী-সমর্থকরা।

এক মতবিনিময় সভায় শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল বলেন, নির্বাচিত হলে খুলনাকে মাদকমুক্ত ও জলাবদ্ধতামুক্ত একটি আধুনিক মহানগরী হিসেবে গড়ে তুলবো।

শেখ জুয়েলের সমর্থক সোহাগ বলেন, এলাকার উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে শেখ জুয়েল তার প্রচার-প্রচারণায় ভোটারদের কাছে সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম, ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা তুলে ধরে এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ভোট চাচ্ছেন। বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্য হওয়ায় মানুষ শেখ জুয়েলের পিছু ছুটছেন।

আকতারুজ্জামান বাবুর নির্বাচনী প্রচারণা সহকারী তসলিম হুসাইন তাজ বলেন, ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ছুটে যাচ্ছেন আকতারুজ্জামান বাবু। অবহেলিত কয়রা-পাইকগাছার উন্নয়নে নানান প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। এতে যুব সমাজ তার প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে। আর প্রবীণ ভোটাররা করছেন দোয়া।

বিএনপি প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুলের অনুসারী জি এম রাসেল বলেন, বকুল ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতা ছিলেন। নির্বাচন সামনে রেখে নানামুখী কার্যক্রম চলছে তার। ইতোমধ্যে খুলনা-৩ এলাকার মানুষের কাছে তিনি ব্যাপক সাড়া পেয়েছেন।

আজিজুল বারী হেলালের সমর্থক রফিকুল ইসলাম বাবু বলেন, হেলাল ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন। যে কারণে তরুণ সমাজ তার প্রতি আকৃষ্ট বেশি। খেলার মাঠে ও মহল্লায় মহল্লায় নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন তিনি।

আবুল কালাম আজাদের সমর্থক রওশন আলী বলেন, কয়রা-পাইকগাছা আসনে বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে বিরোধ নেই। ধানের শীষ প্রতীক দেওয়ার পর বিএনপির নেতাকর্মীরা কালামের পক্ষে প্রচার-প্রচারণায় মাঠে নেমে পড়েছেন।