সোনাহাট স্থলবন্দর
ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা
ভারতীয় ও বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের রশি টানাটানিতে প্রায় চার মাস যাবত্ ভূরুঙ্গামারীর সোনাহাট স্থলবন্দরের পণ্য আমদানি-রপ্তানি বন্ধ রয়েছে। ফলে একদিকে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে প্রায় ৯০০ শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের অভিযোগ: ভারত থেকে আমদানি পণ্য ১০ চাকার ট্রাকের মাধ্যমে আসলেও হঠাত্ করে তারা তা বন্ধ করে ছয় চাকার ট্রাকে পাঠাতে শুরু করে। ১০ চাকার ট্রাকে ৩০ মেট্রিক টন পর্যন্ত পণ্য পাঠানো সম্ভব হলেও, ছয় চাকার ট্রাকে পণ্য পাঠাতে থাকে মাত্র ১০ মেট্রিক টন করে। ফলে ৫০০ মেট্রিক টন পণ্য আমদানিতে যেখানে ১০ চাকার ১৬টি ট্রাক প্রয়োজন, সেখানে ছয় চাকার ট্রাক প্রয়োজন পড়ছে ৫০টি। এতে ব্যবসায়ীদের খরচ বেশি গুণতে হচ্ছে। এ কারণে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা এলসি করলেও ছয় চাকার ট্রাকের মাধ্যমে পণ্য আমদানিতে আগ্রহ না দেখানোতে এবং ভারতীয় ব্যবসায়ীরা ১০ চাকার ট্রাকে পণ্য পাঠাতে সম্মত না হওয়ায় প্রায় চার মাস যাবত্ এ বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি-রপ্তানি বন্ধ রয়েছে।
স্থলবন্দরের শ্রমিক নুরুল হক, কাশেম আলী ও আবুল হোসেন জানান, বন্দরে প্রায় ৯০০ শ্রমিক কাজ করে। কিন্তু প্রায় চার মাস যাবত্ বন্দর বন্ধ থাকায় তাদের কাজ চলছে না। বর্তমানে তারা অর্ধাহারে-অনাহারে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। এদিকে গত ৩০ আগস্ট উভয় দেশের ব্যবসায়ীদের নিয়ে সোনাহাট স্থলবন্দরে সমঝোতা বৈঠক হলেও তা অমীমাংসিতভাবে শেষ হওয়ায় বন্দরের কার্যক্রম আরো অনিশ্চয়তায় পড়ে। সোনাহাট সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সরকার রকীব আহমেদ জানান, প্রায় ২ কোটি টাকার এলসি করা হলেও স্থলবন্দর বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তবে কয়েকদিনের মধ্যে বিষয়টি মীমাংসা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। সোনাহাট স্থলবন্দর শুল্ক স্টেশনের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান শিকদার জানান, সমস্যাটি আমাদের নয়, ব্যবসায়ীদের। তবে আশা করা যায় খুব দ্রুত এর সমাধান হবে।