সংশোধিত প্রকল্প ব্যয় অনুমোদনের অপেক্ষায়

জয়পুরহাট ফোর লেন

শাহাদুল ইসলাম সাজু, জয়পুরহাট প্রতিনিধি

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের এক বছর পার হলেও শুরু হয়নি জয়পুরহাট শহরের প্রস্তাবিত আড়াই কিলোমিটার ফোর লেন সড়কের কাজ। এক রাস্তার শহর হিসেবে গড়ে ওঠা জয়পুরহাটে যানজট এখন জেলাবাসীর নিত্যসঙ্গী। বিশেষ করে সকালে স্কুলগামী শিক্ষার্থী ও অফিসগামী লোকজনদের পড়তে হয় চরম ভোগান্তিতে। এদিকে ফোর লেনের কাজ শুরু করা যাচ্ছে না সংশোধিত প্রকল্প ব্যয় অনুমোদন না হওয়ার কারণে।

 জেলা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্র জানায়, ভূমি অধিগ্রহণসহ পুরো প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ১৬৪ কোটি টাকা। বগুড়ার মোকামতলা থেকে জয়পুরহাট পর্যন্ত ৩১ কিলোমিটার ঐ প্রকল্পের আওতায় আসে। এর মধ্যে মোকামতলা থেকে হারাইল বাস টার্মিনাল পর্যন্ত ২৮ কিলোমিটার সড়ক ১৮ থেকে ২৪ ফুট প্রশস্ত করা এবং হারাইল থেকে রেলগেট পর্যন্ত আড়াই কিলোমিটার ৬০ ফুটে প্রশস্ত করে ফোর লেন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। ২০১৭ সালে একনেকে প্রকল্পটি অনুমোদন হওয়ার পর তিনটি প্যাকেজে দরপত্র আহ্বান করে স্থানীয় সওজ বিভাগ। ২০১৮ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর জয়পুরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য বর্তমানে হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন ফোর লেন কাজের ভিত্তিপ্রস্তরও স্থাপন করেন। পরবর্তীতে গেজেট সংশোধন করে ক্ষতিপূরণ বাড়িয়ে তিন গুণ করার পাশাপাশি জমির দাম বাড়ানো হলে দেখা দেয় কাজ শুরু নিয়ে জটিলতা। সংশোধিত প্রকল্প ব্যয় অনুমোদনের জন্য আবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানান জয়পুরহাট সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী তানভীর সিদ্দিক।

সিপিবি জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক এম এ রশিদ বলেন, ঢাকঢোল পিটিয়ে ফোর লেন কাজের উদ্বোধন করা হলেও গত এক বছরে কোনো কাজ হয়নি। জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক তিতাস  মোস্তফা বলেন, এক সড়কের শহর জয়পুরহাট। এখানে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত যানজট লেগেই থাকে। ভিত্তি স্থাপনের এক বছরেও ফোর লেনের কাজ শুরু না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেন তিনি। জয়পুরহাট প্রেসক্লাবের সভাপতি মোস্তাকিম ফাররোখ বলেন, জয়পুরহাটের ওপর দিয়ে বর্তমানে বগুড়া, দিনাজপুর, নওগাঁ ও রাজশাহী জেলার নানা ধরনের যানবাহন চলাচল করে থাকে। ফলে যানজটের ভোগান্তি যেন শেষ হয় না।

জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী তানভীর সিদ্দিক এ ব্যাপারে বলেন, ‘মোকামতলা-জয়পুরহাটের অংশের কাজ চলছে পুরোদমে। শুধু ফোর লেনের কাজ শুরু করা যাচ্ছে না সংশোধিত প্রকল্প ব্যয় অনুমোদন না হওয়ার কারণে। চলতি মাসেই একনেকে প্রকল্পটি অনুমোদন হওয়ার কথা। অনুমোদন হলেই ফোর লেনের কাজ শুরু করা হবে।’