স্মৃতিময় মাঠে মুন্না আসলামদের উত্তরসূরিরা
সোহেল সারোয়ার চঞ্চল, কলকাতা থেকে
সল্ট লেকের যুব ভারতি ক্রীড়াঙ্গনে আজ রাত ৮টায় শুরু হতে যাওয়া বাংলাদেশ ও ভারতের ফুটবল লড়াই উত্তেজনার পারদ ছড়িয়েছে। মুখিয়ে আছে দুই বাংলার দর্শকরা। মাঠের ১১ জনের পাশাপাশি গ্যালারির অন্তত ৬০ হাজার দর্শকেরও বিপক্ষে খেলতে হবে ইংলিশ কোচ জেমি ডের শিষ্যদের। বাংলাদেশ অধিনায়ক জামাল ভুঁইয়া ম্যাচ নিয়ে চিন্তিত নন। তার দল খেলাটা উপভোগ করতে চায়।
জামাল ভুঁইয়াদের আবেগতাড়িত করতে পারে পরোনো স্মৃতিও। কেননা বাংলাদেশের অনেক ফুটবলারের স্মৃতি জড়িয়ে আছে সল্ট লেকের এই মাঠকে ঘিরে। আসলাম, মুন্না, গাউস, কায়সার হামিদসহ অনেক ফুটবলার কলকাতার লিগে খেলার সময় এই মাঠে সুনামের সঙ্গে খেলেছেন। ইস্ট বেঙ্গলকে লিগ ট্রফি জেতানোর অন্যতম কারিগর ছিলেন মোনেম মুন্না, গাউস আসলামরা। সেই স্মৃতিমাখা মাঠে মুন্না আসলামদের উত্তরসূরিরা আজ মাঠে নামছেন।
ভারতীয় দল গত রবিবার কলকাতার নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। সে সময় প্রায় ৫০০ ফুটবল দর্শক বিমানবন্দরে ভিড় করে। এরা ফুটবলের টানে অধিনায়ক সুনীল ছেত্রীর দলকে অভ্যর্থনা দিয়েছিলেন। লক্ষী পূজার দিনটিতে গৌহাটি থেকে কলকাতায় আসেন তারা। তাই নাড়ু মুখে বরণ করে নেওয়া হয়েছিল তাদের।
সল্ট লেকের মাঠে দেশের হয়ে গত ৮ বছর জার্সি গায়ে চাপাননি সুনীলরা। এবার এমন এক সময় ভারত কলকাতায় খেলেতে এসেছে যখন তাদের বিপক্ষ বাংলাদেশ। এমনিতে দুই বাংলায় ফুটবলের আবেগটা বেশি। ফুটবল তাদের প্রাণের খেলা। তাই রোমাঞ্চটাও কম নয়। সেটা বুঝতে পারছেন জামাল ভুঁইয়া ও তার বিপক্ষ ভারত অধিনায়ক সুনীল ছেত্রী।
সল্ট লেকের মাঠে ৩৪ বছর পর ফুটবল ম্যাচ খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ও ভারত। ভারতের হোম ম্যাচ, সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে। আড়াইশ সাংবাদিক খেলা কাভার করবেন মাঠে বসে। দেশ থেকেও সাংবাদিকরা এসেছেন কলকাতায়, ছুটছেন খবরের পেছনে।
বাংলাদেশ ও ভারতের এ খেলাটি হলো—২০২২ বিশ্বকাপ ও একই সঙ্গে ২০২৩ এশিয়ান কাপের বাছাই পর্বের। বাংলাদেশ ‘ই’ গ্রুপে নিজেদের প্রথম খেলায় তাজিকিস্তানে আফগানিস্তানের কাছে ১-০ এবং ঢাকায় কাতারের বিপক্ষে ২-০ গোলে হারে। দুই ম্যাচেই বাংলাদেশ যে দারুণ খেলেছে, তা মানছে ভারতীয় দলও। তাই ফল যাই হোক আজ সব প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে ভারতের বিপক্ষে লড়বে বাংলাদেশ। লড়াইটা যেন একই সঙ্গে মর্যাদারও।
কাতার, বাংলাদেশ, ভারত, ওমান এবং আফগানিস্তান গ্রুপ পর্বে লড়ছে। কাতার বিশ্বকাপটির আয়োজক। রাউন্ড টু পর্বের বাছাই শেষে তারা তৃতীয় পর্বের বাছাইয়ে খেলবে না। এ কারণে কাতার গ্রুপ চ্যাম্পিয়নও হয় সেক্ষেত্রে গ্রুপ রানার্সআপ দলের জন্য বিরাট সুযোগ তৃতীয় রাউন্ডে যাওয়ার। সেই আশায় আছে ভারত। ওমানের বিপক্ষে গৌহাটিতে প্রথম ম্যাচেই হেরেছে ভারত। এরপর দোহায় গিয়ে কাতারের বিপক্ষে গোল শূন্য ড্র করে ভীষণ উজ্জীবিত। তারা ধরে নিয়েছে আজ বাংলাদেশকে হারিয়ে প্রথম জয় তুলে নিয়ে থাকবে রানার্স আপের লড়াইয়ে।
এ কারণেই সুনীলদের পারফরম্যান্সে ধার দেওয়াচ্ছেন ক্রোয়েশিয়ান কোচ ইগর ইস্তিমাচ। ভারতের স্বপ্নের বেলুন ফুটো করে দিতে বাংলাদেশের গোল পোস্টে অতন্দ্র প্রহরী হয়ে কাজ করবেন গোলকিপার আশরাফুল রানা। যদি তিনিই মাঠে নামেন তাহলে জীবনের সেরাটা ঢেলে দেবেন, এমন কথা শুধু রানার কণ্ঠেই নয়। রবিউল, সোহেল রানা, সুফিল, বিপলু, রায়হানদের কণ্ঠেও।