যে কাজ বিশ বছর টেকসই হওয়ার কথা সেটি দু’বছরে নষ্ট হচ্ছে, সরকারকে আবার সে প্রকল্পে ব্যয় করতে হচ্ছে অর্থ। অথচ কাজ ঠিকমতো হলে আরেকটি নতুন উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা যেত। এ অবস্থা সরকার দলীয় গ্রাম কমিটি থেকে কেন্দ্রীয় কমিটি পর্যন্ত বিস্তৃত। গ্রামে কোনো সালিস, বৈঠক হলে দলীয় পদবিধারীরা বাদী বিবাদী উভয় পক্ষ থেকে এবং জরিমানার টাকা থেকে ভাগ নেয়। নগর, মহানগর, জেলা, উপজেলা পর্যায়ে বাড়ি বানাতে গেলে একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের চাঁদা দিতে হয়। প্রতিটা বাসস্টেশন, সিএনজি স্টেশন থেকে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকা চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। যানবাহন চলাচলে জিপি নামক চাঁদা দিতে হয়, ফলে পরিবহন ব্যয় বেশি হওয়ায় দ্রব্যমূল্যে তার প্রভাব পড়ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কমিটির অন্তর্ভুক্ত হয়ে নিয়োগ বাণিজ্য করা হচ্ছে, প্রতিষ্ঠান উন্নয়নে সরকার প্রদত্ত অর্থ থেকে ভাগ নেওয়া হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় হলগুলোতে সিট দেওয়া তাদেরই নিয়ন্ত্রণে। হল কর্তৃপক্ষ নিজ পদ রক্ষায় ছাত্র-নেতাদের তোষামোদ করছে। দলীয়ভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হওয়ায় সেখানে বিশাল মনোনয়ন বাণিজ্য হচ্ছে, ত্যাগীরা মনোনয়নে বঞ্চিত হচ্ছেন। এক শ্রেণির কর্মকর্তা, জেলা শিক্ষা অফিসার, উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে ব্যবহার করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বই বাণিজ্য করা হচ্ছে। যে বইটি ২০০ টাকা হওয়ার কথা, সে বইটি ১০০০ টাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে কিনতে বাধ্য করছে। এভাবে অনেকে অর্থ উপার্জনের জন্য ক্ষমতা, দলীয় প্রভাবকে কাজে লাগাচ্ছে। দেখা যাবে গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত দলীয় পদবিধারী অনেকের যাদের সাইকেল কেনার সামর্থ্য ছিল না, তারা এখন ব্যক্তিগত গাড়ির মালিক। তাই গ্রাম পর্যায় থেকে কেন্দ্রীয় পর্যায় পর্যন্ত ক্ষমতাসীন দলের যে কোনো পদে আসীন হলে তার সম্পদের হিসাব প্রদান বাধ্যতামূলক করা হোক। দলীয় পদ চলে গেলেও তার সম্পদের হিসাব প্রদান অব্যাহত রাখতে হবে, যাতে প্রবৃদ্ধি হঠাত্ ব্যাপক কমে গেলে আয়ের মিথ্যা তথ্য যাচাই করার সুযোগ থাকে। এ ব্যবস্থা প্রবর্তন হলে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে দুর্নীতি করার প্রবণতা কমবে।
মো. ইয়াছিন মজুমদার
শ্রীরামপুর, মনতলী বাজার, নাঙ্গলকোট, কুমিল্লা