চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকা থেকে মাসে কোটি টাকা আদায় করত র্যাবের সঙ্গে গুলি বিনিময়ে নিহত খুরশিদ বাহিনীর প্রধান খুরশীদ আলম। বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি এখানকার বিশাল ফুটপাতে গড়ে উঠা শত শত দোকানপাট থেকেও সে চাঁদা আদায় করত। এছাড়াও নিজের বাহিনীকে ব্যবহার করে মাদকের কারবার ও টেন্ডারবাজি করত সে। গত রবিবার রাতে সেই বাণিজ্যিক এলাকাতেই ক্রসফায়ারে নিহত হয় সন্ত্রাসী খুরশীদ আলম।
র্যাব-৭ এর লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মাহাবুুবুল আলম বলেন, খুরশীদ ছিল তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী। তার বিরুদ্ধে মনির হোসেন হত্যাসহ অস্ত্র, চাঁদাবাজি ও মাদকের আটটি মামলা রয়েছে। এছাড়া আগ্রাবাদ এলাকায় বেপরোয়াভাবে চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এর আগে তাকে ধরতে গিয়ে হামলার শিকারও হয় পুলিশ।
জানা গেছে, নগরীর মোগলটুলী ওয়ার্ডের যুবলীগ নেতা খুরশীদ এক সময়ের শীর্ষ সন্ত্রাসী চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল কাদের ওরফে মাছ কাদেরের অনুসারী ছিল। তার হাত ধরেই সে অপরাধ জগতে প্রবেশ করে। এরপর আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকা, এক্সেস রোড, শেখ মুজিব রোড, চৌমুহনী, পাঠানটুলী রোড, মোগলটুলী, কমার্স কলেজ রোড ও বার কোয়ার্টার এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেয়। এসব এলাকায় নির্মাণাধীন ভবন, ফুটপাতের হকার, শিপিং অফিসে জাহাজের পরিত্যক্ত তেল সরবরাহ, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজি ও রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন প্রতিষ্ঠানের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করত সে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকায় খুরশীদ বাহিনীর অনুমতি ছাড়া কেউ দোকান বসাতে পারত না। শুধু ফুটপাত থেকে তার মাসিক আয় ছিল প্রায় দুই কোটি টাকা। খুরশীদের হয়ে এখানে দোকান থেকে চাঁদা তুলত শাহাদাত ও বাবলু নামের দুই যুবক। চাঁদাবাজি ছাড়াও সে হত্যা মামলারও আসামি ছিল। ২০১৪ সালের ২৯ জুন রাতে খুরশীদ তার অনুসারীদের নিয়ে আরেক সন্ত্রাসী কানা মান্নানকে খুন করে। শরীর থেকে তার হাত বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়। ক্ষতবিক্ষত করা হয় পুরো শরীর। এছাড়া গত ১৮ আগস্ট আগ্রাবাদের বিভিন্ন শিপিং হাউজ থেকে চাঁদা আদায়ের সময় পুলিশ তাকে গ্রেফতারের উদ্দেশ্যে অভিযান চালালে উলটো সে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে পালিয়ে যায়। এর আগেও সে দুইবার পালিয়ে যায়। এসব কারণে তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পেত না।