আলমডাঙ্গার গঙ্গা-কপোতাক্ষ প্রকল্পের দুই পাড়ে অবৈধ স্থাপনা

চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গার গঙ্গা-কপোতাক্ষ (জিকে) সেচ প্রকল্পের দুই পাড়ের অবৈধ দখলদারদের তালিকা প্রকাশ করেছে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড। এতে ২৮৪ টি অবৈধ প্রতিষ্ঠান ও দখলদারের নাম উঠে এসেছে। দখলদাররা রেলওয়ের জমিও অবৈধভাবে নিজেদের দখলে নিয়ে গড়ে তুলেছে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এসব অবৈধ প্রতিষ্ঠান ভেঙ্গে ফেলার প্রক্রিয়া চলছে। 

সোমবার বেলা ১১টার দিকে আলমডাঙ্গার লালব্রীজ এলাকায় দখলদারদের এসব অবৈধ প্রতিষ্ঠান সরেজমিন দেখতে আসেন পাকশী রেলওয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নুরুজ্জামান ও রেলওয়ের  কানুনগো মো. রাজিউজ্জামান। এ সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুরুজ্জামান অর্ধশতাধিক দখলদারের সাথে কথা বলেন। দখলদারদের টিকে থাকার জন্য বিভিন্ন পরামর্শ দেন। এ সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নুরুজ্জামান দখলদারদের মাঝে নিজের মোবাইল নাম্বার দিয়ে তাঁর সাথে কথা বলারও পরামর্শ দেন।

এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুরুজ্জামানের সঙ্গে মোবাইলে একাধিকবার কথা বলার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তার মোবাইল নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়। পরিদর্শনে আসা দুই সরকারী কর্মকর্তা অবৈধ দখলদারদের পক্ষ নিচ্ছে কিনা জানতে চাইলে রেলওয়ের কানুনগো রাজিউজ্জামান বলেন, 'স্যার অবৈধ দখলদারদের পক্ষ নেননি। অনেকেই না বুঝে বিভিন্ন কার্যালয়ে গিয়ে ধর্না দেন। সঠিক জায়গায় গিয়ে কাগজপত্র ঠিক করার জন্য তিনি হয়ত মোবাইল নাম্বার দিয়ে থাকতে পারেন।'

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুবীর চন্দ্র পাল বলেন, 'আমরা আলমডাঙ্গার গঙ্গা-কপোতাক্ষ (জিকে) প্রকল্পের দুই পাড়ে দখলদাররা যে অবৈধ স্থাপনা গড়ে তুলেছে তা চিহ্নিত করেছি। মোট ২৮৪ টি স্থাপনা ও দখলদারের নাম জেলা প্রশাসকের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড যৌথভাবে কাজ করবে।'

এদিকে, অবৈধ দখলদারদের স্থাপনা উচ্ছেদের খবরে বিভিন্ন জায়গায় দেন-দরবার শুরু করেছেন দখলদার হাফিজুর রহমান। এক সময়ের মাদক কারবারি ও চোরাকারবারি হাফিজুর রহমানের রয়েছে অবৈধ ১০টি স্থাপনা। তিনি উচ্ছেদ ঠেকাতে সব দখলদারদের একজোট হতে কাজ করছেন বলে জানা গেছে। 

এদিকে স্থানীয়রা এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ চান। তারা বলছেন জিকে ক্যানেল ও রেলওয়ের সড়কের দুই পাশে অবৈধ স্থাপনা গড়ে ওঠায় চরম জন-ভোগান্তি ও যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি