পরকীয়ায় বাধা দেওয়ায় স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা!

উপজেলার বিশনন্দী ইউনিয়নের কড়ইতলা গ্রামে পরকীয়ায় বাধা দেওয়ায় কুলসুম বেগম (২২) নামে এক গৃহবধূকে তার স্বামী পিটিয়ে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার পর থেকে স্বামী শাহ আলম পলাতক রয়েছে। রবিবার রাতে শাহ আলম তার স্ত্রী কুলসুমকে পিটিয়ে জখম করে। কুলসুমকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত কুলসুম বেগম উপজেলার মানিকপুর এলাকার হক মিয়ার মেয়ে। স্বামী শাহ আলম (২৫) উপজেলার কড়ইতলা এলাকার জলিল মিয়ার ছেলে। তাদের পাঁচ মাসের এক ছেলে রয়েছে।

নিহতের ভাই শেখ ফরিদ জানান, দুই বছর আগে পারিবারিকভাবে শাহ আলমের সঙ্গে কুলসুমের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই কুলসুমকে মারধর করত শাহ আলম। গত রবিবার রাতেও কুলসুমকে মারধর করে শাহ আলম। একপর্যায়ে কুলসুম অজ্ঞান হয়ে পড়লে তাকে তার শ্বশুর ও শাশুড়ি রাতেই আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে সেখানকার জরুরি বিভাগের ডাক্তার কুলসুমকে মৃত ঘোষণা করে। ঘটনার পরপরই পালিয়ে যায় শাহ আলম। খবর পেয়ে কুলসুমের স্বজনরা শ্বশুর-শাশুড়িকে আটক করে রাখে। নিহতের বড়ো বোন মিনারা বেগম অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে শাহ আলম স্থানীয় একটি মেয়ের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে। এতে বাধা দিয়ে আসছিল স্ত্রী কুলসুম বেগম।

আড়াইহাজার থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, পারিবারিক কলহের জের ধরে শাহ আলম লাঠি দিয়ে স্ত্রী কুলসুমের মাথায় আঘাত করায় সে মারা যায়। এছাড়া তার শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। শাহ আলমের বাবা মাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।