প্রভাবিত হয়ে ব্যবস্থা না নিলে দুদক চেয়ারম্যানের সরে যাওয়া উচিত

বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সদস্যসচিব ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস এমপি বলেছেন, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের নানা পর্যবেক্ষণ থাকার পরও বেসিক ব্যাংকের তত্কালীন চেয়ারম্যান আব্দুল হাই বাচ্চুর বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি দুদক। তিনি বলেন, দুদকের চেয়ারম্যান যদি বলে থাকেন বা মনে করেন তিনি কোনো প্রভাবের কারণে বাচ্চুর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেননি, তাহলে তিনি শপথ ভঙ্গ করেছেন। সে কারণে অবশ্যই তার পদ থেকে সরে যাওয়া উচিত।

গতকাল সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ব্যারিস্টার তাপস এসব কথা বলেন। জবাবে দুদকের কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান বলেন, দুদক একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা। এটার চেয়ারম্যান নির্ধারণ করা হয় বাছাই কমিটির মাধ্যমে। তিনি পদত্যাগ করবেন কি না, তা চেয়ারম্যানের একান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপার।

ব্যারিস্টার তাপস বলেন, ‘আমরা লক্ষ করেছি, দুদক কয়েক দফা ডেকে আব্দুল হাই বাচ্চুকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা করা হয়নি। তাই আমরা মনে করি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে দুর্নীতিবিরোধী ও শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছেন, তার পরিপ্রেক্ষিতে দুদকের এ বিষয়ে জবাবদিহি দরকার। দুদকের চেয়ারম্যান যদি মনে করেন, তিনি কারো কথায় প্রভাবিত হবেন না, তাহলে বাচ্চুর বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ও জিজ্ঞাসাবাদে আশু পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।’

ব্যারিস্টার তাপস বলেন, ‘বেসিক ব্যাংকের মাধ্যমে ফিন্যান্সিয়াল সেক্টরে যে দুর্নীতি হয়েছে, তার মূল ব্যক্তি আব্দুল হাই বাচ্চু, যার কারণে সরকার তাকে সেই পদ থেকে অপসারণ করেছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত বেসিক ব্যাংক-সংক্রান্ত যত দুর্নীতির মামলা হয়েছে, আমরা লক্ষ করেছি যে শুধু কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীদের সেই মামলায় সম্পৃক্ত করা হয়েছে। কিন্তু বাচ্চুর বিরুদ্ধে আজ পর্যন্ত কোনো দুর্নীতির মামলা আনা হয়নি।’

দুদকের কৌঁসুলি বলেন, ‘শেখ ফজলে নূর তাপসের বক্তব্যকে আমরা অ্যাপ্রিশিয়েট করছি। তিনি চাইছেন বেসিক ব্যাংক মামলার চার্জশিট হোক। একজন সংসদ সদস্য হিসেবে বা একজন সচেতন আইনজীবী হিসেবে তিনি তা চাইতে পারেন।’ তিনি বলেন, কিছুদিন আগে দুদকের চেয়ারম্যান বলেছিলেন, বেসিক ব্যাংকের সঙ্গে ৪ হাজার কোটি টাকার বিষয় জড়িত। প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা উদ্ধার হয়েছে। বাকি অনেক টাকা উদ্ধার হওয়ার পথে। মানিলন্ডারিং মামলার প্রধান বিষয় টাকার উত্স এবং টাকাটা কোথায় গেছে তা খুঁজে বের করা। এখন টাকার যদি গন্তব্য বের করা না যায়, তাহলে তো চার্জশিট আদালতে প্রশ্নের সম্মুখীন হবে।