অবশেষে একাদশ জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুই হেভিওয়েট প্রার্থী ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ভোট যুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য প্রতীক নিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ছুটছেন।
হেভিওয়েট প্রার্থীর একজন হলেন- আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক পানিসম্পদমন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন এমপি আর অন্যজন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
স্বাধীনতার পর থেকে ঠাকুরগাঁও-১ আসন আওয়ামী লীগ তথা মহাজোটের দখলে থাকলেও ২০০১ সালের নির্বাচনে আসনটি হাতছাড়া হয়। এরপর ২০০৮ থেকে এই আসটি আবারো আওয়ামী লীগের দখলে চলে আসে।
৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা মার্কায় রমেশ চন্দ্র সেন মরিয়া আওয়ামী লীগ। অপরদিকে আসন পুনরুদ্ধার করতে চান মির্জা ফখরুল।
বর্তমান সংসদ সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন জানান, তিনি দীর্ঘদিন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। এ ছাড়া তৃতীয়বারের মতো এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। বিগত সময়ে পানিসম্পদমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ওই সময় থেকে এখন পর্যন্ত তিনি জনগণ ও দেশের উন্নয়নে ব্যাপক কাজ করেছেন। বিশেষ করে ঠাকুরগাঁওয়ে রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট, স্কুল-কলেজ-মাদরাসা, মন্দির-মসজিদ স্থাপনসহ অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন, যা দৃশ্যমান।
আরো পড়ুন: আইপিএল নিলামে শুধু মুশফিক-রিয়াদ
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মুহাম্মদ সাদেক কুরাইশী জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে দলকে সুসংগঠিত করে রেখেছেন। বর্তমানে দলে কোনো বিভেদ নেই। দলকে পুনর্বিন্যাস, দলীয় বিভিন্ন সভাসহ বিগত দিনের ছোটখাটো কিছু ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটাতে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন।
নেতাকর্মীদের দাবি অনুযায়ী, ঠাকুরগাঁওয়ের তিনটি সংসদীয় আসনের মধ্যে সদর আসনে বিএনপি আগের তুলনায় অনেক বেশি সুসংগঠিত ও শক্তিশালী। এর প্রমাণ মেলে পৌরসভা ও সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে। দুটি নির্বাচনেই বিএনপি প্রার্থী ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে পরাজিত করে নির্বাচিত হয়েছে। মূলত আওয়ামী লীগের অন্তঃকোন্দলের কারণে এমনটা হলেও নির্বাচনের আগ মুহূর্তে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম একাধিকবার এলাকায় আসেন। তার এ আগমনই বিএনপি প্রার্থীর জয়ে ভূমিকা রেখেছে।
জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমূর রহমান বলেন, বিএনপি একটি সুশৃঙ্খল রাজনৈতিক দল। এখানে সব কিছুই নিয়ম-শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে চলে। দলের বিভিন্ন পদের নেতাকর্মীরা জ্যেষ্ঠ নেতাদের কথার বাইরে যায় না। নেতাকর্মীরা একে-অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।
‘বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, সব দল ঐক্যবদ্ধ হয়েছি স্বৈরাচার সরকারের পতনের জন্য। নির্বাচন বানচাল করার জন্য আওয়ামী লীগ নানা পরিকল্পনা ও কর্মীদের উপর হামলা, মামলা চালাচ্ছে। শুধু ঠাকুরগাঁও নয়, ৩০ ডিসেম্বর ভোট কেন্দ্রে গণজোয়ারে সারাদেশে ধানের শীষের বিজয় হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এছাড়া অবাধ সুষ্ঠু ভোট যেন সাধারণ ভোটাররা দিতে পারে সেজন্য নির্বাচন কমিশনকে নিশ্চিত করার আহবান জানান।’
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তারা হলেন, আওয়ামী লীগের প্রেসডিয়াম সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন (আ. লীগ) নৌকা প্রতীক, ২-বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (বিএনপি) ধানের শীষ, ৩-আব্দুল জব্বার (ইসলামী আন্দোলন) হাত পাখা, ৪-রফিকুল ইসলাম (ইসলামী ঐক্যজোট) মিনার প্রতীক পেয়েছেন।
ইত্তেফাক/জেডএইচ