লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে স্ত্রী হত্যার অভিযোগে মোহাম্মদ হোসেন (৪০) ওরফে মাদ হোসেন নামে এক জেলেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার রাতে জারিদোনা ব্রিজ এলাকা থেকে স্থানীয় জনতার সহায়তায় পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। হোসেন উপজেলার চর আলেকজান্ডার ইউনিনের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সুজন গ্রামের আলী হোসেনের ছেলে। নিহত পারুল বয়ারচরের ইসলামপুর দিদার বাজার সমাজের মো. বাহার মিস্ত্রির মেয়ে।
এর আগে সোমবার সন্ধ্যায় হোসেনের স্ত্রী পারুল আক্তারের (২৮) অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। হোসেনের বাড়ির পাশের বাংলালিংক টাওয়ারের পরিত্যাক্ত টয়লেটের ভিতর থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের পিতা মো. বাহার মিস্ত্রি বাদী হয়ে মোহাম্মদ হোসেনের নাম উল্লেখ এবং আরও ২-৩ জনকে অজ্ঞাত অভিযুক্ত করে রামগতি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পংকজ কুমার দে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ৫ বছর আগে হোসেনের সঙ্গে পারুলের বিয়ে হয়। নাহিদ (৩) ও সহিদ (২) নামে তাদের দুই ছেলে রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে পারুলকে টাকার জন্য মারধর করতো স্বামী মোহাম্মদ হোসেন। ২৫ সেপ্টেম্বর মোহাম্মদ হোসেন তার স্ত্রী নিখোঁজ হয়েছেন মর্মে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডি সূত্রে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও পারুলের সন্ধান পায়নি।
সোমবার বিকেলে হোসেনের বাড়ির পাশে বাংলালিংকের টাওয়ারের পরিত্যাক্ত টয়লেটের ভিতরে অর্ধগলিত লাশ দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করলে নিহত পারুলের বাবা মো. বাহার এসে শরীরের বিভিন্ন অংশ দেখে তার মেয়ের লাশ শনাক্ত করেন।
আরও পড়ুন: একটি মানবিক আবেদন
রামগতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) এ টি এম আরিচুল হক জানান, খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে পারুলের স্বামী মোহাম্মদ হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করে মঙ্গলবার সকালে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
ইত্তেফাক/নূহু