বৃক্ষ

কাকডুমুর

চয়ন বিকাশ ভদ্র

 

কাকডুমুর মাঝারি আকৃতির বৃক্ষ।  বৈজ্ঞানিক নাম Ficus hispida,  Moraceae পরিবারের উদ্ভিদ। কাকডুমুর জংলি ডুমুর, বুনো ডুমুর, পাতি ডুমুর, কুডুরা, খুকসা, খোকসা, খোকসা ডুমুর, খসখসে, গজ বহই, গজ বুহই, গজ-বই ইত্যাদি নামেও পরিচিত। কাকডুমুরের ফল ছোট এবং খাওয়ার অনুপযুক্ত। এই গাছ অযত্নে-অবহেলায় এখানে সেখানে জন্মায়। গাছও তুলনামূলকভাবে ছোট হয়ে থাকে।

অন্যান্য প্রজাতির ডুমুরের মতো এর পাতা শিরিশ কাগজের মতো খসখসে প্রকৃতির। তাই এর আরেক নাম খরপত্রী। এই পাতা দিয়ে গ্রামাঞ্চলে অনেকে শিং, মাগুর জাতীয় মাছ কাটার আগে ঘষে পিচ্ছিল ভাব পরিষ্কার করেন। এর পাতা প্রজাপতির মথের খাবার। এর ফল কাণ্ডের গায়ে থোকায় থোকায় জন্মে। পাখিরাই প্রধানত এই প্রজাতির ডুমুরের ফল খেয়ে থাকে এবং পাখির বিষ্ঠার মাধ্যমে বীজের বিস্তার ঘটে থাকে।

মূলত গ্রীষ্মমণ্ডলীয় এলাকাসমূহেই এ প্রজাতির গাছ দেখা যায়। বাংলাদেশ, ভারত, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, চীন প্রভৃতি দেশসহ এশিয়ার অনেক অঞ্চলে এবং অস্ট্রেলিয়ায় পাওয়া যায়।

কাকডুমুর রক্তপরিষ্কারক, বমনকারক। এর ছালের ক্বাথ সোরিয়াসিস, জণ্ডিস ও রক্তপিত্তে (নাক, মুখ দিয়ে রক্ত পড়া) উপকারী। জ্বর নিবারণের জন্য এর ছালের গুঁড়ো ১-২ গ্রাম মাত্রায় দিনে তিন-চার বার খাওয়াতে হয়। অল্প মাত্রায় খেলে এটি টনিকের কাজ করে।