শেষ ষোলয় উঠলো লিভারপুলও
স্পোর্টস ডেস্ক
লিভারপুল ১-০ গোলে নাপোলিকে হারিয়ে পিএসজির সাথেই চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নকআউট পর্বে পৌঁছে গেল। অপর দিকে, বার্সেলোনার সাথে ড্রয়ে অসম্ভবকে সম্ভব করে একই যোগ্যতা অর্জন করলো টটেনহ্যাম হটস্পার।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলয় এখন আর কেবল একটি আসন খালি আছে। ইতোমধ্যে নাম লেখানো দলগুলো হলো- আয়াক্স, অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ, বার্সেলোনা, বায়ার্ন মিউনিখ, বরুশিয়া ডর্টমুন্ড, জুভেন্তাস, লিভারপুল, ম্যানচেষ্টার সিটি, ম্যানচেষ্টার ইউনাইটেড, পিএসজি, পোর্তো, রিয়াল মাদ্রিদ, রোমা, শালকে ও টটেনহ্যাম হটস্পার। সম্ভাবনা আছে লিয় ও শাখটার ডনেটস্ক এর।
দুই ইংলিশ ক্লাব লিভারপুল ও টটেনহ্যাম বিলম্বে হলেও ইউরোপের ক্লাব ফুটবলের সর্বোচ্চ এই প্রতিযোগিতার নকআউট পর্ব নিশ্চিত করতে পেরেছে।
কোচ য়ুর্গেন ক্লপের লিভারপুলের জন্য নিজ মাঠে ন্যাপোলির বিরুদ্ধে খেলাটি ছিল হয় জেতো, নয়তো বাদ ধরনের। বিশেষ করে পিএসজির মাঠে দলটির হতাশ করা ২-১ গোলের হারটির পর। কিন্তু মোহামেদ সালাহ’র গোলে গত বুধবার রাতে সমস্ত সংশয়ের অবসান ঘটায় লিভারপুল।
টটেনহ্যামের জন্য পরিস্থিতি ছিল কঠিন। তাদের শুধু নিজেদের খেলার উপরই নির্ভর করলে চলতো না। গ্রুপের অপর দল ইন্টার মিলানের সাথে পিএসভি আইন্ডহোভেনের খেলাটির ফলের ওপরও নির্ভর করছিল। শেষ পর্যন্ত মিলানের ড্রয়ের বিপরীতে বার্সেলোনার মাঠে ১-১ ফল নিয়ে শেষ ষোলয় উঠে আসে কোচ মরিচিও পচেত্তিনোর দল টটেনহ্যাম।
ইন্টার মিলানও এই রাতে ১-১ গোলে ড্র করেছিল। কিন্তু টটেনহ্যামের সাথে হারের কারণে ‘বি’ গ্রুপে সমান ছয় খেলায় আট পয়েন্ট করে পেলেও কপাল পুড়ে ইতালির দলটির। কোচ পচেত্তিনো পরে জানান, তার বিশ্বাস টটেনহ্যাম এমন এক অর্জন সম্ভব করে যা অনেকের কাছেই ছিল ‘মিশন ইমপোসিবল’। এটি হলো- মহাদেশীয় এই প্রতিযোগিতায় চতুর্থ অংশগ্রহণে তৃতীয়বারের মতো নকআউটে ওঠা।
বার্সেলোনা অবশ্য নিজের মাঠে সপ্তম মিনিটে ওসমান দেম্বেলের গোলে এগিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু ৮৫ মিনিটে লুকাস মউরার গোলে সমতা ফেরায় অতিথি ইংলিশ ক্লাবটি। গ্রুপে নিজেদের প্রথম দুটি খেলাতে হার এবং পিএসভির মাঠে ড্রয়ের কারণে অনেকেই হটস্পারদের সুযোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। এখন সেসবের অবসান ঘটায় আর্জেন্টাইন কোচ পচেত্তিনোর তার দলের অর্জনকে অভিনন্দিত করেন।
তিনি খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমি অনেক আনন্দিত, অনেক গর্বিত। আমার স্মরণে আছে আইন্ডহোভেনের পর কেউই আমাদের ওপর আস্থা রাখতে পারেনি। তারা সবাই বলেছিল এটা হলো ‘মিশন ইমপোসিবল’। কিন্তু আমরা এখন এখানে।’
পচেত্তিনো আরো বলেন, ‘আমরা এখন পরের রাউন্ডে এবং ক্লাবটির জন্য এটা হলো বিশাল এক অর্জন। আমরা এখানে পৌঁছানোয় আমাদের সমর্থকদের কথা ভেবে অনেক আনন্দিত। এই আনন্দ লন্ডনে ও সারা দুনিয়ায় থাকা সমর্থকদের জন্য। ক্লাবের জন্য এটা অনেক বড় উল্লম্ফন। ব্যাপারটা এই ভেবে আরো ভালো যে, নতুন বছরে আমরা নতুন স্টেডিয়ামে পরের রাউন্ড খেলব।’
বার্সেলোনা আগেই নকআউট পর্ব নিশ্চিত করে রেখেছিল গ্রুপ জয়ী হিসেবেই। কিন্তু এ খেলাটিতে ড্রয়ের সুবাদে স্পানিশ ক্লাবটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে তাদের শেষ ২৯টি খেলাতেই অপরাজিত থাকলো। এর মধ্য দিয়ে ২০০২ সালের এপ্রিলে বায়ার্ন মিউনিখের গড়া রেকর্ডটিতে ভাগ বসালো বার্সা।