বিমান ও পর্যটনমন্ত্রীর প্রতি

বাংলাদেশ বিমান বিজি ৪৯৫-এ ক’দিন আগে গেছি ঢাকা থেকে সৈয়দপুর। বিমানের ভেতরে ইংরেজিতে লেখা ‘এক্সিট’, তার নিচে আরবি এবং বাইরের দিকে যাবার তীর চিহ্ন। ‘এমারজেন্সি ডোর হ্যান্ডেল’ লেখাটির নিচেও আরবি। বাংলা নেই।  কাগজের যে মোড়কে খাবার দেওয়া হলো তার উপর লেখা :‘বোনা পেতি’। যতদূর জানি শব্দ দুটি ফরাসি। অর্থ : খাদ্য উপভোগ করুন। অবশ্য ‘বসা অবস্থায় সিটবেল্ট বেঁধে রাখুন’ কথাটি বাংলায় লেখা এবং নিচে ইংরেজি।

মনে হচ্ছে, এই দেশের মানুষরা বাংলা ছাড়া, ইংরেজি, আরবি আর ফরাসি খুব ভালো বলতে, পড়তে ও বুঝতে পারে। জাতীয়তার বোধ সঠিক না হলে, কখনো আন্তর্জাতিক হওয়া যায় না।

আমার ‘দুঃখিনী বর্ণমালা’-য় ঐ কথাগুলি লিখে তার নিচে যত ইচ্ছে বিদেশি ভাষা লিখুন। যে-জাতি নিজের ভাষাকে সম্মান করে না, মর্যাদা দেয় না, তাকে অন্য দেশের মানুষরা কী চোখে দেখে ? তারা আমাদের ঔপনিবেশিক-দাস মনে করে।

বলা প্রাসঙ্গিক হবে, বিয়য়টি অর্থমন্ত্রীর জন্য। সরকারি ব্যাংক ‘সোনালী’ ও ‘অগ্রণী’র চেক বই ইংরেজিতে। কেন বাংলা নেই ?

সৈয়দপুর থেকে ঢাকায় ফিরেছি ইউএস বাংলা বিএস ১৫৪-এ। ইউএস বাংলার বিমানের ভেতরে ‘এক্সিট’ শব্দটির নিচে নয়, উপরে বাংলায় ‘বাহির’ লেখা। বেসরকারি বিমান বাংলাকে সম্মান দেখাতে পারলে, সরকারের পরিচালিত বিমানে, ব্যাংকে ‘সর্বত্র বাংলা ব্যবহারে’র নির্দেশনা মানা হয় না কেন?

জাহিদ হায়দার, সিদ্ধেশ্বরী, ঢাকা