হলগুলো দখলদারিত্ব মুক্ত করুন

হলে উঠতে হলে বড়োভাইদের পায়ে ধরতে হবে। নির্দেশ মতন পড়াশোনা বাদ দিয়ে সময়ে-অসময়ে মিছিল-মিটিংয়ে যেতে হবে। কেন? হলের খরচ কে দেয়? বড়োভাইরা নাকি বড়োভাইয়ের দল? জনগণের করের অর্থ দিয়ে যে বিশ্ববিদ্যালয় চলে, তাতে অবৈধ দখলদাররা চর দখলের মতো বাণিজ্য করে বেড়ায়। হল প্রশাসন নিশ্চুপ। এসব অপকর্ম দেখার কেউই কি নেই? প্রশাসন হল বরাদ্দ দেবে। সিট খালি খাকা সাপেক্ষে। কিন্তু এখন হচ্ছে তার বিপরীত। প্রশাসনের ভূমিকা এখানে গৌণ। মুখ্য আমাদের রাজনীতির বড়োভাইয়েরা। এদের কথায় চলে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কত কষ্ট করে যে তরুণ বা তরুণীটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পা রাখে, তাকে এই প্রতিদান দেওয়া হবে! বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্ব জ্ঞানের চর্চা হবে। বিশ্ব মতের মানুষ থাকবে। অথচ তাদের কি না টুটি চেপে ধরছে কিছু মাস্তান গুন্ডা, যাদের পড়াশোনা বলতে কিচ্ছু নেই। ক্লাসে উপস্থিতি নগণ্য। গবেষণার খাতা শূন্য। যাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েই কাজ শেষ। তাদের হাতে একজন মেধাবীকে যখন লাঞ্ছিত হতে হয়, তখন তা সহ্য হওয়ার মতো নয়। পৃথিবী থেকে বহু আগে দাস প্রথার বিলুপ্তি ঘটেছে। তবে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্ছেদ হয়নি! যতদিন বিবেকের দরজাগুলো খুলবে না, ততদিন আমাদের জ্ঞানীদের পদদলিত হতে হবে। একজন শিক্ষকের সম্মান অনেক, যদি তা তিনি নিতে জানেন। হল প্রশাসনের কাছে বিনীত নিবেদন—দয়া করে হলগুলো দখলমুক্ত করুন। প্রকৃত ছাত্রদের জ্ঞানপিপাসা অঙ্কুরে নষ্ট করবেন না।

সিরাজুল মুস্তফা

চট্টগ্রাম