একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে প্রধান রাজনৈতিক দল ও জোটগুলো থেকে অতিদ্রুতই নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করা হবে। আসন্ন নির্বাচনে তরুণ ভোটারের সংখ্যা প্রায় ২ কোটি ৩২ লাখ (যাদের বয়স ১৮ থেকে ২৮ বছরের মধ্যে)। আর বয়স ৩৫ বছর পর্যন্ত বিবেচনা করলে তরুণ ভোটারের সংখ্যা দাঁড়াবে প্রায় ৪ কোটি। তথ্য মতে, দেশে এখন বেকারের সংখ্যা প্রায় ২৭ লাখ। তবে প্রকৃতপক্ষে বেকারের সংখ্যা আরও বেশি। একজন বেকার তরুণকে চাকরি প্রত্যাশী হিসেবে অনেক সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। তাই তরুণ প্রজন্মের ভোট পেতে হলে রাজনৈতিক দল ও জোটগুলোতে তরুণদের বিদ্যমান সমস্যাগুলো বিবেচনায় নেওয়া জরুরি বলে মনে করি।
কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা : পড়ালেখা শেষ করা লক্ষ লক্ষ তরুণ চাকরি পাওয়ার প্রত্যাশায় থাকে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। প্রতিবছর পড়ালেখা শেষ করে প্রায় ২২ লাখ তরুণ চাকরির বাজারে প্রবেশ করে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এর অর্ধেক তরুণের চাকরি হয়। বাকিদের বেকারের খাতায় নাম লিখে বছরের পর বছর অপেক্ষায় থাকতে হয় চাকরি পাওয়ার জন্য। এক্ষেত্রে বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর জোর দিতে হবে। আবার ঢালাওভাবে গ্র্যাজুয়েট তৈরি না করে চাকরির বাজারে যে খাতের চাহিদা রয়েছে সে খাতের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। সর্বোপরি তরুণরা পড়ালেখা শেষ করে যেন যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি পায় সে নিশ্চয়তা দিতে হবে।
চাকরির আবেদন ফি ও নিয়োগে দীর্ঘসূত্রিতা কমানো:বেকার তরুণ চাকরি প্রত্যাশীদের কাছে সবচেয়ে বড় দুঃসংবাদ হলো- চাকরির আবেদন ফি। বিভিন্ন চাকরিতে আবেদন করতে একজন তরুণকে বেকার থাকা অবস্থায় অর্থের বিশাল একটা অংশ ব্যয় করতে হয়। তরুণ জনগোষ্ঠী এ রাষ্ট্রেরই সম্পদ। তরুণদের জন্য সব ধরনের চাকরিতে সামান্য আবেদন ফি বাতিল করলে ক্ষতিটা কী হবে ? আবার চাকরির নিয়োগে দীর্ঘসূত্রিতা তরুণ চাকরি প্রত্যাশীদের জন্য অন্যতম একটি সমস্যা। বছরের পর বছর ধরে এ সমস্যা চলে আসছে। আবেদনের পর চাকরির পরীক্ষার আশায় একজন চাকরি প্রত্যাশীকে বছরের পর বছর বসে থাকতে হচ্ছে। এ বিষয়সমূহ চাকরি প্রত্যাশী তরুণদের বিরক্তির কারণ হচ্ছে। তরুণরা নির্বাচনী ইশতেহারে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার চায়।
এ ছাড়া সব চাকরির পরীক্ষা যেন বিভাগীয় শহরগুলোতে অনুষ্ঠিত হয় সে নিশ্চয়তা চাকরি প্রত্যাশীদের দিতে হবে। বেকার তরুণদের প্রশিক্ষণ ও সহজ শর্তে ঋণ দিয়ে উদ্যোক্তা হিসেবে তৈরির ব্যবস্থা করতে হবে। এ ছাড়া নিবন্ধিত শিক্ষকদের চাকরির নিশ্চয়তা দিতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী তরুণ সমাজের কাছে দেশের প্রধান শত্রু ঘুষ-দুর্নীতি। দুর্নীতিবাজদের সামাজিকভাবে বয়কট করতে হবে। দেশে সুশাসন ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা গেলে দুর্নীতি কমবে। এ ব্যাপারে জাতীয় ঐক্য ও রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছা জরুরি। তারুণ্যের শক্তি বা কর্মদক্ষতার ওপর ভর করে একটি দেশ উন্নতি লাভ করে। তাই তরুণদের কাজে লাগাতে হবে, স্বপ্ন দেখাতে হবে। মোট ভোটারের প্রায় ২৫ শতাংশের বেশি তরুণ জনগোষ্ঠী আসন্ন নির্বাচনে ভোটের ফল নির্ধারণে সবচেয়ে বড় নিয়ামক হবে। তাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী তরুণ জনগোষ্ঠীর চাওয়া-পাওয়াগুলোকে নির্বাচনী ইশতেহারে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। তবে রাজনৈতিক দল ও জোটগুলোকে শুধু ইশতেহার ঘোষণা করলেই হবে না, তা বাস্তবায়নেও উদ্যোগী হতে হবে।
n লেখক:শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।