বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যায় জড়িতদের স্থায়ী বহিষ্কার পর্যন্ত ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ডাক দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে আবরার হত্যার ঘটনায় বুয়েট প্রশাসনের গৃহীত সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট হয়ে মাঠপর্যায়ের আন্দোলন বন্ধের ঘোষণাও দেন তারা। তবে আগামীকাল শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা এক শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করবেন। তারা জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী চার্জশিট দাখিল করার পর তাদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা পর্যন্ত ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করা হবে।
গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ মিনারের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নিজেদের অবস্থান সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘোষণা দেন তারা। এর আগে সকাল থেকে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেন আন্দোলনকারীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান চারটি ব্যাচ এই আলোচনায় অংশ নেয়। বেলা ১১টায় নিজেদের অবস্থান ঘোষণা করার কথা থাকলেও পরে বিকাল ৫টায় সংবাদ সম্মেলন করবেন বলে জানান তারা। বিকাল ৪টায় ভারপ্রাপ্ত ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুল বাসিতের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। পরে বিকাল পৌনে ৬টায় গণমাধ্যমের সামনে আসেন তারা।
গণমাধ্যমের সামনে নিজেদের ১০ দাবির ৩টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে ছিল জানিয়ে তারা বলেন, ‘আমরা দেখেছি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অনেককে গ্রেফতার, রিমান্ড মঞ্জুর ও জবানবন্দি নিয়েছে। এ কারণে আমরা তাদের ধন্যবাদ জানাই।’ প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানিয়ে বলা হয়, ‘তিনি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তত্পর হয়েছিলেন বলেই এত দ্রুত অগ্রগতি হয়েছে বলে আমরা বিশ্বাস করি। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও বিচারব্যবস্থা তার স্বাভাবিক গতিতে বিচারকাজ এগিয়ে নেবে বলে আমাদের বিশ্বাস।’
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তত্পরতা উল্লেখ করে বলা হয়, ‘১০টির মধ্যে ৫টি দাবি ছিল বুয়েট প্রশাসনের কাছে। দাবি বাস্তবায়নে ইতিমধ্যে আমরা বুয়েট প্রশাসনের তত্পরতা লক্ষ করেছি। জড়িতদের সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা, তদন্তের ভিত্তিতে স্থায়ী বহিষ্কার করার ব্যাপারে নোটিশ আসা, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার তদন্তের ভিত্তিতে নতুন করে যদি কোনো অপরাধীর নাম উঠে আসে, তাদেরও আজীবন বহিষ্কার করা, আবরারের পরিবারকে অর্থনৈতিকভাবে সাহায্য করা এবং সাংগঠনিকভাবে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করার নোটিশ আমরা পেয়েছি। এর পাশাপাশি হলে হলে রাজনৈতিক কক্ষগুলো সিলগালা করা হয়েছে। সাধারণ ছাত্র ও প্রাধ্যক্ষের উদ্যোগে অবৈধ ছাত্রদের উত্খাত করা হয়েছে। বিআইআইএস একাউন্টে নির্যাতিতদের অভিযোগ জানাতে একটি প্ল্যাটফরম সংযুক্ত করা হয়েছে। সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ মনিটরিং করার জন্য প্রশাসনিক পদ সৃষ্টি করার দাবি জানিয়ে এসেছি।’
শিক্ষার্থীদের বক্তব্য, ‘আন্দোলন চলাকালীন আমরা লক্ষ করেছি যে আমাদের ভাইয়ের লাশকে কেন্দ করে আড়ালে-অন্তরালে অনেক স্বার্থান্বেষী সংগঠন নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে আমরা সুস্পষ্ট করে বলতে চাই, এসব মহলের সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই।’
উল্লেখ্য, ৬ অক্টোবর শেরেবাংলা হলে আবরারকে পিটিয়ে হত্যা করেন বুয়েট ছাত্রলীগের একদল নেতাকর্মী। আবরার বুয়েটের তড়িত্ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের (১৭তম ব্যাচ) ছাত্র ছিলেন। তিনি থাকতেন বুয়েটের শেরেবাংলা হলের নিচতলায় ১০১১ নম্বর কক্ষে। ঘটনার দিন তাকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয় একই হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে। ঐ কক্ষে তাকে নির্যাতন করেন বুয়েট ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। রাত ৩টার দিকে হল থেকেই তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।