বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি বলেছেন, শিক্ষাঙ্গনে গণতন্ত্র নেই, মতপ্রকাশের স্বাধীনতাও নেই। বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সারাদেশ ক্ষুব্ধ ও মর্মাহত। আর সুশীলরা বলছেন, এই ঘটনায় ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করে দিতে হবে। কিন্তু এটি মাথাব্যথায় মাথা কেটে ফেলার শামিল।
তিনি প্রশ্ন রাখেন জাতীয় রাজনীতিতেও খুন-খারাপি দুর্নীতি সন্ত্রাস আছে, তবে কী জাতীয় রাজনীতিও বন্ধ করে দিতে হবে?
মঙ্গলবার বিকালে গাইবান্ধা পৌর শহিদ মিনারে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি গাইবান্ধা জেলা শাখার ৫ম সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাশেদ খান মেনন এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, ঐসব সুশীলরা সুযোগ পেলে বিরাজনীতিকরণ করার কথা বলেন। আবার তারা সময় সুযোগ পেলেই জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের জন্য লাফ দিয়ে পড়েন। তাই তারা ছাত্ররাজনীতি বন্ধের কথা বলেন।
মেনন বলেন, বাংলাদেশ উন্নয়নের মহাসড়কে উঠেছে, কিন্তু এই উন্নয়নে মূল সম্পদ মুষ্টিমেয় মানুষের হাতে। শতকরা পাঁচ ভাগ মানুষ এতে উপকৃত। আর ৯৫ ভাগ মানুষ বঞ্চিত।
তিনি বলেন, ৪ কোটি মানুষের মাথাপিছু আয় এখনো ১ ডলারের কম। দুর্নীতি, ঋণখেলাপি, মাদকব্যবসা ও টাকা পাচার করে মুষ্টিমেয় মানুষ এই সম্পদ করেছে। তারা ক্ষমতার চারপাশে থেকে দেশের সমস্ত সম্পদ লুটে নিচ্ছে।
মেনন এমপি বলেন, গত ১০ বছর থেকে শুনছি তিস্তা চুক্তি হবে। কিন্তু এবারও তা হলো না। তবে এ নিয়ে বিএনপি জামায়াত নতুন ফন্দি শুরু করেছে। তারা বলছে, কোথায় তিস্তার পানি আনব উলটো প্রধানমন্ত্রী ফেনীর পানি দিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু যে সামান্য পানি দেওয়া হয়েছে তা আমাদের একসময়ে সাহায্য করেছিল যে ত্রিপুরা সেই শহরের খাবার পানি হিসাবে দেওয়া হয়েছে। আমরা বরং বলি আমরা খাবার পানি দিয়েছি তোমরা আমার কৃষকের চাষাবাদের পানি দাও। তিনি আরো বলেন, বিএনপি কিন্তু ক্ষমতায় থাকতে কোনো পানি আনতে পারেনি।
সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গাইবান্ধা জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বীরেন সরকার মিন্টুর সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিশেষ অতিথি পার্টির পলিট ব্যুরো সদস্য আনিসুর রহমান মল্লিক, আমিনুল ইসলাম গোলাপ, জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক প্রণব চৌধুরী খোকন, জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা মতিন মোল্লা, মাসুদুর রহমান মাসুদ প্রমুখ।