দুদক চেয়ারম্যানের পদত্যাগের প্রশ্ন আসছে কেন? ------------দুদক সচিব

এমপি শেখ ফজলে নূর তাপসের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার বখ্ত বলেছেন, দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদের পদত্যাগের প্রশ্ন কেন আসছে, সেটা বুঝতে পারছি না। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

দুদক সচিব বলেন, আমরা কালকের সংবাদে দেখেছি যে, কমিশন শপথ ভঙ্গ করেছে, এমন বক্তব্য এসেছে। আমাদের কোনো কমিশনার বা চেয়ারম্যান শপথ গ্রহণ করে দায়িত্ব গ্রহণ করেন নাই। মামলার তদন্ত বা অভিযোগ অনুসন্ধানে আমাদের তদন্ত কর্মকর্তারা তদন্ত করছেন। এর দায়-দায়িত্ব কমিশন বা চেয়ারম্যানের ওপর বর্তায় না। সুতরাং এ ক্ষেত্রে পদত্যাগের প্রশ্ন কেন আসছে বুঝতে পারছি না।

বেসিক ব্যাংকের তদন্তে বিলম্ব প্রশ্নে সচিব বলেন, বেসিক ব্যাংকের সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার মধ্যে বেশির ভাগ টাকাই নগদ উত্তোলন হয়েছে, এ টাকা কোথায় ব্যবহার হয়েছে কিংবা জমা হয়েছে আমাদের কর্মকর্তারা তা বের করতে পারেননি। তদন্ত কর্মকর্তারা টাকার লিংক খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন। যতক্ষণ পর্যন্ত টাকা কোথায় গেছে, কোন কোন ক্ষেত্রে ব্যবহার হয়েছে, তার লিংক বের করা সম্ভব না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা যায় না। তদন্ত শেষে যাকে আইনের আওতায় আনার তথ্য-উপাত্ত পাওয়া যাবে তাকেই চার্জশিটভুক্ত করা হবে।

দুদক সচিব বলেন, এ টাকাটা যখন চেকে নিয়েছে, উত্তোলন করার পরে টাকা যদি ব্যাংকে রাখা হতো তাহলে উত্স পাওয়া যেত। টাকা নিয়ে একেকজন একেক কাজে ব্যবহার করেছে, সেখানে মানি লন্ডারিং হয়েছে। কাজেই অর্থের উত্স খুঁজতে গিয়ে অনেক সময় বিলম্ব হয়ে থাকে। একই সঙ্গে তদন্ত বিলম্বের দায়ভার দুদক চেয়ারম্যানের নয়।

উল্লেখ্য, গত সোমবার সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, দুদকের চেয়ারম্যান দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে তার পদ থেকে সরে যাওয়া উচিত।