সংস্কার না হওয়ায় যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনে ভোগান্তি

পাথালিয়া-কড়িয়াটা সড়ক

গোপালপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা

ঝিনাই নদীর ভাঙনে চার বছর আগে বিলীন হওয়া উপজেলার উত্তর পাথালিয়া-কড়িয়াটা ভায়া দক্ষিণ চাতুটিয়া সড়কটি সংস্কার না করায় মানুষের যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনে চরম ভোগান্তি হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার উত্তর পাথালিয়া-কড়িয়াটা ভায়া দক্ষিণ চাতুটিয়া সড়কটি ব্রিটিশ আমলে জমিদার হেমচন্দ্র চৌধুরী নির্মাণ করেন। বর্তমানে সড়কটি উপজেলা পরিষদের নিয়ন্ত্রণাধীন ঝিনাই নদীর কোল ঘেঁষা এ সড়কে  হাদিরা, নগদাশিমলা ও ঝাওয়াইল ইউনিয়নের বিশ গ্রামের মানুষ যাতায়াত করে। এলাকার কৃষিপণ্য হাটবাজারে নেওয়ার সহজ রাস্তাও এটি। দক্ষিণ চাতুটিয়া মজিবর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়, উত্তর পাথালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঝাওয়াইল মহারানি হেমন্তকুমারী হাইস্কুল এবং ঝাওয়াইল সুরেন্দ্রবালা গার্লস হাইস্কুলের শীক্ষার্থীরা এ পথেই যাতায়াত করে।

সাবেক ইউপি সদস্য ও মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেন এবং অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক গুরু দয়াল পাল জানন, চার বছর আগে ঝিনাইয়ের ভাঙনে সড়কের প্রায় এক কিলোমিটার নদীগর্ভে নিমজ্জিত হয়। সেটি আর মেরামত বা সংস্কার হয়নি। ভাঙন রোধেও নেওয়া হয়নি কোনো  ব্যবস্থা। ফলে সড়কের পর এখন আবাদী জমি নদীতে বিলীন হচ্ছে। চাতুটিয়া সীমান্ত বাজারে সপ্তাহে দুদিন বড়ো হাট বসে। সড়ক না থাকায় হাটুরেসহ সকলকে ফসলি জমি, বাড়িঘরের আঙ্গিনা, গ্রামীণ বন বা জঙ্গল পেরিয়ে মেঠো পথে আসা-যাওয়া করতে হয়। ঝিনাই নদী এখানে নজীরবিহীন সর্পিল হওয়ায় বিকল্প রাস্তা পেরুতে তিন-চার কিলোমিটার বাড়তি পথ পায়ে হেঁটে গন্তব্যে যেতে হয়। এলাকার অধিকাংশ মানুষ কামার, কুমার, নাপিত, মালি, মুচি এবং বিত্তহীন হওয়ায় তাদের কষ্টে কেউ এগিয়ে আসে না বলে অভিযোগ স্কুল শিক্ষক রমানাথের।

হাদিরা ইউপি চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদের তালুকদার জানান, স্থানীয় প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিকাশ বিশ্বাস জানান, দুর্ভোগের খবর তিনি শুনেছেন। শিগগিরই তিনি স্থানটি পরিদর্শনে যাবেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।