অনিশ্চয়তা নিয়েই আছেন সাইফউদ্দিন

স্পোর্টস রিপোর্টার

বিশ্বকাপের আগে থেকেই ইনজুরি নিয়ে সমস্যায় আছেন। ব্যথানাশক নিয়ে খেলেছেন পুরো বিশ্বকাপ। সেখানে ভালো পারফরমই করেছেন। তারপর থেকে আবারও সমস্যায় ভুগছেন। প্রায় এক মাস হয়ে গেল মাঠের বাইরে আছেন। বিসিবি চাচ্ছে ইংল্যান্ডে পাঠিয়ে সাইফউদ্দিনের বায়োমেকানিক পরীক্ষা করিয়ে আনার জন্য। যাতে মূল থেকে উত্পাটন করা যায় তার ইনজুরিটা। কিন্তু সেই প্রক্রিয়াও থমকে আছে ফাইল চালাচালির একটা পর্যায়ে।

এখন সাইফের সামনে কী, এটা তিনি নিজেও জানেন না। কেউ বলছেন, তার অপারেশন করাতে হবে। কেউ বলছেন, বোলিং অ্যাকশন পরিবর্তন করতে হবে। ক্যারিয়ারের জন্য সাইফ সবই করতে রাজি আছেন। কিন্তু এই অনিশ্চিতভাবে বিছানায় শুয়ে থাকাটা আর মানতে পারছেন না।

নিজের সর্বশেষ অবস্থা বলতে গিয়ে সাইফউদ্দিন বলছিলেন, আপাতত বিছানায় শুয়েই প্রায় দিন কাটছে তার, ‘আপাতত রেস্টে আছি। একই সঙ্গে বেডরেস্টে আছি বলা যায়। ফিজিও জুলিও ক্যালেফাতের সঙ্গে কথা বলেই এই রেস্টটা নেওয়া। গতকাল এপোলোতে স্ক্যান করিয়েছি। এরপর বোঝা যাবে কি করতে হবে সামনে।’

এখন সামনে কী আছে, সেটা নিয়ে পরিষ্কার জানা নেই কারোরই। তবে এই পেস বোলিং অলরাউন্ডার বললেন, ইংল্যান্ড থেকে সাড়া পেলে একটা কিছু পরিষ্কার হবে, ‘আজ স্যারের (বিসিবির চিকিত্সক দেবাশীষ চৌধুরী) সঙ্গে কথা বললাম। ওনারা জানাল আমার বিষয় নিয়ে কথাবার্তা বলেছে সেখানে। আমার কয়েকটা রিপোর্ট ওনারা ইতিমধ্যে পাঠিয়েছেন, কাল মনে হয় আরেকটা পাঠাবে। এটার পর আসলে বুঝতে পারব আমার যাওয়ার প্রক্রিয়া বা আমার চিকিত্সার প্রক্রিয়া কতদূর এগোচ্ছে।’

সাইফউদ্দিন এখনো জানেন না, তার অস্ত্রপচার করাতে হবে কি না। সেটা হলেও আপত্তি করবেন না। মাশরাফিকে দেখেই অনুপ্রেরণা নিচ্ছেন তিনি, ‘ক্যারিয়ার বাঁচানোর জন্য যে কোনো কিছু করতে হবে। যদি মাশরাফি ভাইয়ের কথা বলেন অনেকগুলো সার্জারি নিয়ে খেলেছেন। মাত্র শুরু, এখনই করলে হয়তো আমার জন্য কিছুটা কঠিন হবে। কিন্তু সবকিছু করতে রাজি আছি। ক্রিকেট আমার রুটি-রোজগার, এটা আমার পেশা। এটার জন্য আমি সবকিছু করতে রাজি আছি।’

বোলিং অ্যাকশন বদলাতেও রাজি আছেন বলে বলছিলেন, ‘এটা বলা কঠিন আমার জন্য। অবশ্য এটা আমার জীবনের বড়ো টার্নিং পয়েন্ট হবে। হুট করে কিছু বলব না। আমার যেটা মনে হবে ভালো, সেটাই করব।’

এই ডামাডোলে সাইফউদ্দিন সবচেয়ে বেশি মিস করছেন মাঠের খেলা। বলছিলেন, ‘মন তো চায় কাল থেকেই মাঠে নামি। কিছুটা জেলখানার কয়েদিদের মতো। দেখতেছি, কিন্তু খেলতে পারছি না। এটা আমাদের ক্রিকেটারদের জন্য বিরক্তিকর। দুই-এক সপ্তাহ হলে ঠিক আছে, কিন্তু এক মাসের মতো হয়ে যাচ্ছে। এটা আজীবনের অংশ, খেলতে গেলে ইনজুরি হবে।’

এমন চললে হয়তো ভারত সফরটা মিস করবেন। তবে সতীর্থরা যে এই সফরে ভালো করতে পারে, সে বিশ্বাস আছে তার, ‘এর আগেও আমরা অনেক খেলেছি ভারতের বিপক্ষে, বিশ্বকাপ বলেন, এশিয়া কাপ বলেন। হয়তো আমরা হেরেছি বেশিরভাগ ম্যাচ। কিন্তু অনেক কাছে যেতে পেরেছি। আমরা যদি আগের ঘাটতিগুলো থেকে শিক্ষা নিতে পারি তাহলে আমাদেরও জয় সম্ভব। আমাদের দলের ঐ সামর্থ্য আছে।’