দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৭২৭ টন কয়লা লোপাটের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় খনির সাবেক এমডি প্রকৌশলী হাবিবউদ্দীন আহমেদসহ তিন কর্মকর্তার জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে আদালত।
দুদকের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ওমর ফারুক জানান, ঐ মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশের একদিন পর গতকাল বুধবার দুপুরে মামলার চার্জশিটভুক্ত ২৩ আসামি দিনাজপুরের সিনিয়র স্পেশাল জজ আজিজ আহমদ ভূঞার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। আদালত শুনানি শেষে তিন জনের জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এসময় সাবেক ছয় এমডিসহ বাকি ২০ জনের জামিন আবেদন মঞ্জুর করে আদালত।
যাদের জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে তারা হলেন—কয়লা লোপাটের ঘটনায় ধরা পড়ার সময় বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী হাবিবউদ্দীন আহমেদ, খনির মাইন অপারেশন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক আবু তাহের মো. নুর-উজ জামান ও স্টোর ডিপার্টমেন্টের উপ-মহাব্যবস্থাপক একেএম খালেদুল ইসলাম।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০০৬ সালের জানুয়ারি মাস থেকে ২০১৮ সালের জুলাই পর্যন্ত ১ লাখ ৪৩ হাজার ৭২৭ দশমিক ৯২ মেট্রিক টন কয়লা চুরি হয় বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি থেকে। যার আনুমানিক মূল্য ২৪৩ কোটি ২৮ লাখ ৮২ হাজার ৫০১ টাকা ৮৪ পয়সা। এই ঘটনায় কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুত্ কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যায়। কয়লা গায়েবের ঘটনায় বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানির ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) আনিসুর রহমান বাদী হয়ে গত বছর ২৪ জুলাই ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে পার্বতীপুর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটি দুদকের তপশিলভুক্ত হওয়ায় দুদক কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়। পরে মামলাটি দুদকের উপপরিচালক সামসুল আলম তদন্ত করেন। গত ২৪ জুলাই মামলাটির চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হয়।