ইত্তেফাক রিপোর্ট
নির্বাচনে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) রিটার্নিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না-এই মর্মে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে জনপ্রশাসন সচিব, আইন সচিব, প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল বুধবার এই আদেশ দেন। আদেশের পর অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেন, আদালত ডিসিদের রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনের উপর কোনো স্থগিতাদেশ দেয়নি। অর্থাত্ নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালনে কোনো বাধা নেই। তবে জারিকৃত রুলের উপর চূড়ান্ত শুনানির পর যে রায় হবে, তাতে কোনো নির্দেশনা থাকলে তা ভবিষ্যত্ নির্বাচনের ক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য বিভাগীয় কমিশনার ও ডিসিদের পরিবর্তে ইসির আওতাভুক্ত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আব্দুর রহমান। রিটে বলা হয়, সংসদ নির্বাচনে ৬৪ জেলার ডিসিদের এবং ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনারকে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী ডিসিরা নির্বাচন পরিচালনাকারী হওয়ার সুযোগ নেই। এতে সাংবিধানিক বাধা রয়েছে। এরা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীনে কাজ করে থাকেন। এরা নির্বাচন পরিচালনায় সরাসরি অংশ না নিয়ে সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করতে পারে।
রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও রিটকারী পক্ষে ব্যারিস্টার সাকিব মাহবুব শুনানি করেন। শুনানি শেষে হাইকোর্ট রুল জারি করে। ব্যারিস্টার সাকিব মাহবুব বলেন, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের ৬৮৯ কর্মকর্তার মধ্যে থেকে রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগের ক্ষমতা রয়েছে ইসির হাতে। এর বাইরে অন্য কাউকে ওই দায়িত্ব দেওয়ার এখতিয়ার নেই ইসির।