প্রেমিকের সহযোগিতায় আপন বোনের মেয়েকে অপহরণ করে ৬০ লাখ টাকা মুক্তিপণ চাওয়ার অভিযোগে খালাসহ দুই জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেফতারকৃতরা হলো—খালা শাহিনুর আক্তার ও তার প্রেমিক শাহীন হাওলাদার। গত সোমবার বরগুনা সদরের ফুলঝুড়ি গ্রাম থেকে অপহূত শিশু মাহিমা আক্তার লামিয়াকে (৫) উদ্ধার ও এই দুই জনকে গ্রেফতার করা হয়। ডিবির ডেমরা জোনের একটি দল অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে।
সব কার্যক্রম শেষে গতকাল বুধবার সকালে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে শিশুটিকে তার মায়ের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এর আগে গত ৭ অক্টোবর রাজধানীর ডেমরার একটি মাদ্রাসা থেকে লামিয়াকে অপহরণ করে নিয়ে যায় তার খালা। লামিয়াদের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার তিতাস উপজেলার হরিপুর গ্রামে। সে তার মায়ের সঙ্গে নানার বাসা ডেমরার নূর মসজিদ সংলগ্ন বাঁশেরপুল এলাকায় থাকত। তার বাবা বাহরাইন প্রবাসী। শিশুটি স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় প্লে-শ্রেণিতে পড়াশুনা করে।
ডিবি ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, রাজধানীর ডেমরার নূর মসজিদ সংলগ্ন বাঁশেরপুল এলাকায় নানাবাড়িতে মায়ের সঙ্গে থাকে শিশু লামিয়া। প্রতিদিন মা লাকী আক্তারের আঁচল ধরে স্থানীয় মাদ্রাসায় প্লে-গ্রুপে পড়তে যায় সে। গত ৭ অক্টোবর একইভাবে লামিয়াকে মাদ্রাসায় রেখে বাসায় ফেরেন মা। কিছুক্ষণ পর খবর পান এক নারী নিজেকে লামিয়ার খালা পরিচয় দিয়ে কিছু কিনে দেওয়ার কথা বলে মাদ্রাসায় ঢুকে তাকে বাইরে নিয়ে যায়। কিন্তু তাকে আর মাদ্রাসায় ফেরত দেয়নি। পরে লামিয়ার মাকে কল করে মেয়েকে অপহরণের কথা জানিয়ে ৬০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা। একপর্যায়ে লাকী আক্তার ৩০ হাজার টাকা বিকাশের মাধ্যমে পাঠায় এবং ডেমরা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত সোমবার বরগুনা থেকে লামিয়াকে উদ্ধার করা হয়। সেই সঙ্গে অপহরণকারী শাহিনুর আক্তার ও তার প্রেমিক শাহীন হাওলাদারকে গ্রেফতার করে ডিবি। গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, অপহরণকারী নারী শাহিনুর লামিয়ার আপন খালা। গত মঙ্গলবার লামিয়ার মা মামলা করলে ঐ মামলায় এই দুই জনকে গ্রেফতার দেখিয়ে একইদিন আদালতে পাঠালে তাদের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। পরবর্তীতে আদালতের সব কার্যক্রম শেষে গতকাল লামিয়াকে তার মা লাকী আক্তারের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ।
ডিবির ডেমরা জোনের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার রফিকুল ইসলাম বলেন, শাহিনুরের স্বামী, সন্তান থাকা সত্ত্বেও সে শাহিন হাওলাদারের সঙ্গে প্রেম করত। ঐ প্রেমিকের গ্রামের বাড়ি বরগুনা। লামিয়াকে সেখানে নিয়ে রাখে তারা। জিজ্ঞাসাবাদে শাহিনুর আরো জানায়, তার বাবার কাছ থেকে সম্পত্তি ও টাকা চাইলে বাবা দিতে রাজি হয়নি। তাই ভাগনিকে অপহরণ করলে হয়তো টাকা দেবে, এই ভেবে অপহরণ করেছে। তাছাড়া লামিয়ার বাবা প্রবাসী এবং তার অনেক টাকা আছে ভেবেও লামিয়াকে অপহরণ করা হয়।
ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে মেয়েকে বুঝে পাওয়ার পর শিশুর মা লাকী আক্তার বলেন, লামিয়ার বাবা বাহরাইন প্রবাসী। তাদের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার তিতাস থানার হরিপুর গ্রামে। তার বোন এমন কাজ করেছে যে তিনি বিশ্বাস করতে পারছেন না।