স্মৃতিস্মারক

বাচ্চুর মা আমাকে বড় ছেলে মনে করতেন। প্রথম যখন গান শুরু করি আশির দশকের শুরুর দিকে তখন ওর মা আমাকে বলছিলেন, ‘ও তপন, রবিন (আইয়ুব বাচ্চু) তো ঢাকা যাচ্ছে। ওর দিকে খেয়াল রাখিস। তুই ওকে দেখবি যে, তুই ওর বড় ভাই। আমি চাই না, রবিন অন্যকিছু করুক। ও গান-বাজনাই করুক।’ বাচ্চু কোনো ব্যবসা করেনি, জীবনের শেষদিন পর্যন্ত শুধু গানই করেছে। সে আপাদমস্তক একজন শিল্পী ছিল। এই শিল্পী জীবনের মধ্য দিয়েই সে সবকিছু করেছে। দেশের মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসা পেয়েছে। এর বেশি আর কি-ই-বা চাওয়ার আছে। সে সার্থক, সে সফল।

                                    

আইয়ুব বাচ্চুকে নিয়ে তপন চৌধুরী

 

আমাদের সময় একমাত্র আইয়ুব বাচ্চু ফুল টাইম ব্যান্ড মিউজিক করতেন। তিনি এটাকেই পেশা হিসেবে নিয়েছিলেন। গানের সর্বক্ষেত্রে তিনি সোচ্চার ছিলেন। শিল্পীদের গানের রয়্যালিটি নিয়ে সবসময় কথা বলেছেন আইয়ুব বাচ্চু। জীবনের শেষদিকের সাক্ষাত্কারেও এ বিষয়ে কথা বলেছেন। অর্থের জন্য শরীরের ওপর অত্যাচার করে গান গেয়েছেন। অনেক দুঃখ-কষ্ট নিয়ে আইয়ুব বাচ্চু ওপারে চলে গেছেন।

গানের রয়্যালিটি নিয়ে আইয়ুব বাচ্চুর অবস্থান প্রসঙ্গে মাকসুদ হক

 

একটা ঘটনার কথা আজ মনে পড়ছে। সংগীত জীবনের একেবারে শুরুর দিকের কথা। বাসাবোর একটা হোটেলে ছিলাম আমি আর আইয়ুব বাচ্চু। দু’জনের পেটেই ক্ষুধা, কিন্তু কারো পকেটেই টাকা নেই। দু’জন ভাগ করে কোনোরকম নাশতাটা খেতে পারবো। হোটেলের বয়কে নাশতা আনতে বললাম। কাগজে মুড়ে পরোটা আর ডিম আনা হলো। কাগজ ভিজে ডিম-পরোটা গেল পড়ে। মেঝে থেকে সেই খাবার তুলে ময়লাটুকু ফেলে দিয়ে দু’জনে খেয়েছিলাম।

 

আইয়ুব বাচ্চুকে নিয়ে স্মৃতিচারণে কুমার বিশ্বজিত্