বাগানবিলাস কাষ্ঠল লতা জাতীয় উদ্ভিদ। আমাদের দেশে এই ফুলগাছ বাড়ির গেইটে রোপণ করা হয় বলে একে গেইট ফুল অনেকে বলে। ফুল দেখতে রঙিন কাগজের মতো বলে কাগজ ফুল, কাগজি ফুল নামও পেয়েছে। আদি নিবাস দক্ষিণ আমেরিকার ব্রাজিল, পেরু ও আর্জেন্টিনা। পরিবার Nyctaginaceae, উদ্ভিদতাত্ত্বিক নাম Bougainvillea spectabilis।
গাছ ঝোপালো, শাখা-প্রশাখা শক্ত মানের এবং কণ্টকময়। দ্রুত বর্ধনশীল। ঘন পাতা, রঙে সবুজ, অগ্রভাগ সূচালো, আকারে ছোট। গাছের গড় উচ্চতা ১০ থেকে ১২ মিটার। শাখা-প্রশাখা অবনত—ছাঁটাই না করা হলে নিচ দিকে ঝুঁকে থাকে। তবে ছাঁটাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গাছকে ছোট-বড় রূপে রাখা সম্ভব। আমাদের দেশে বাগানবিলাস খুবই পরিচিত এবং দেশের প্রায় সর্বত্রই এই ফুলগাছ দেখতে পাওয়া যায়। বাড়ির সামনে, বাড়ির বারান্দায়, সীমানা দেয়ালে, ছাদবাগানের টবে চোখে পড়ে বেশি।
উঁচু থেকে মাঝারি উঁচু ভূমি, রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়া ও প্রায় সব ধরনের মাটিতে বাগানবিলাস ফুলগাছ জন্মে। ডাল কাটিং করে এর বংশ বিস্তার ঘটানো সম্ভব এবং কাটিং চারা রোপণের প্রায় এক বছরের মধ্যে ফুল ধরে। রয়েছে বাগানবিলাসের বাহারি রং। আমাদের দেশে সাদা, লাল, গোলাপি ও হলুদ রঙের ফুল ফুটতে দেখা যায়। পৃথিবীব্যাপী ১৮ প্রজাতির বাগানবিলাস ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে।
গাছের সকল শাখা-প্রশাখার অগ্রভাগে ফুল ঘনভাবে ধরে। একটি ফুল থেকে অন্যটির দূরত্ব খুব কম। ফুলে নরম কোমল পাপড়ি তিনটি, মাঝে পরাগ অবস্থিত। ফুল গন্ধহীন। ফুল ফোটার মৌসুম প্রায় সারা বছরই। তবে গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরত্ ও হেমন্তে বেশি ফোটে। ফুটন্ত বাগানবিলাসের সৌন্দর্য খুবই মনোরম, যা নজর কাড়ে। এর রূপ সৌন্দর্য জনপ্রিয় বলে প্রকৃতিবিদগণ বাগানবিলাসকে অর্নামেন্টাল প্ল্যান্ট বা শোভাবর্ধক উদ্ভিদ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। বাগানবিলাস তার রং-রূপের বিলাস ছড়িয়ে দিক চারিধারে আর প্রকৃতি হয়ে উঠুক রঙে রঙিন।