‘কুর্দিদের রক্তে রঞ্জিত ট্রাম্পের হাত’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিরিয়ার উত্তরাঞ্চল থেকে সেনা সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। তারা বলেন,  ট্রাম্প এ সিদ্ধান্ত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের মিত্র কুর্দিদের বিপদে ফেলে দিয়েছেন। তার হাত কুর্দিদের রক্তে রঞ্জিত। অন্যদিকে, শক্তি বাড়ছে শত্রুপক্ষ রাশিয়া ও সিরিয়ারও। সিরিয়ার উত্তরাঞ্চল থেকে ট্রাম্প সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়ার পর মঙ্গলবার ওহাইওয় ২০২০ সালের প্রথম নির্বাচনী বিতর্কে ডেমোক্র্যাটরা এসব অভিযোগ করেন।

মঞ্চে বিতর্কে অংশ নেওয়া ১২ সম্ভাব্য প্রার্থী একযোগে রিপাকলিকান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বেপরোয়া এবং বিশ্বে মার্কিনিদের স্বার্থের জন্য বিপজ্জনক হিসাবে তুলে ধরতে সচেষ্ট ছিলেন। ওহাইওর বিতর্কে প্রত্যেকেই বলেছেন, ট্রাম্পের বেপরোয়া আচরণ বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের জন্য হুমকি হয়ে উঠছে। যদিও দৌড়ে এগিয়ে থাকা এলিজাবেথ ওয়ার্নারসহ দু-একজন বলেছেন, তারা প্রেসিডেন্ট হলেও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনা মোতায়েনের অবসান চাইবেন। তবে কংগ্রেসের আরেক নারী সদস্য তুলসি গব্বার্ডের অভিযোগের সুর এতটা নরম ছিল না। ইরাক যুদ্ধে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এই নারী ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেন, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাত কুর্দিদের রক্তে রঞ্জিত।’

কুর্দি যোদ্ধা নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমক্রেটিক ফোর্সেস-এর (এসডিএফ) সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রতা দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে ইরাক ও সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেট (আইএস) জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্র কুর্দিদের সমর্থন এবং রসদের জোগান দিয়েছে। তুরস্কে আশ্রয় নেওয়া শরণার্থীদের জন্য ‘নিরাপদ অঞ্চল’ তৈরির কথা বলে দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোয়ান সিরিয়া সীমান্ত থেকে কুর্দি যোদ্ধাদের হটিয়ে দিতে সেখানে সামরিক অভিযানের ঘোষণা দেন। আইএসকে পরাজিত করে এখন সিরিয়ার ওই অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণে আছে কুর্দিরা।

তুরস্ক কুর্দিদের সন্ত্রাসী বলে বিবেচনা করে। যে কারণে তারা কুর্দিদের সীমান্ত থেকে সরে যাওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিল। ওয়াশিংটনের সঙ্গে এ বিষয়ে কয়েক দফা বৈঠকের পর ট্রাম্প প্রশাসন পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে না অভিযোগ তুলে এরদোয়ান সামরিক অভিযানের ঘোষণা দেন।