ভারতের রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ এবং ছত্তিশগড়ে বিজেপি ক্ষমতায় ছিল। কিন্তু তিনটিরই বিধানসভা নির্বাচনে দলটির পরাজয় ঘটেছে। ক্ষমতায় এসেছে কংগ্রেস। এই জয় বিজেপি’র জন্য দু:খের এবং কংগ্রেসের জন্য সুসংবাদ। এমনটি হওয়ার কথা ছিল না। অন্তত ছত্তিশগড়ের বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে অনেকেরই ধারণা ছিল- বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। কিন্তু সেই লড়াইয়ের কাছেও যেতে পারেনি বিজেপি। তাহলে কী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আবেদন ফুরিয়েছে? বিজেপি ঘনিষ্ঠ ড. আর বালাশঙ্কর মনে করেন, প্রধানমন্ত্রী মোদীর আবেদন ফুরায়নি। তবে তিনি আর অপরাজেয় নন।
মঙ্গলবার তেলেঙ্গানা, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, ছত্তিশগড় এবং মিজোরামের বিধানসভার ফল ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান ও ছত্তিশগড়ে কংগ্রেস জয় পেয়েছে। মিজোরাম ও তেলেঙ্গানায় বিজেপি মাত্র একটি করে আসন পেয়েছে। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে এই নির্বাচনকে সেমিফাইনাল হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক যশোবন্ত সিংহের মতে, এই হার থেকে বিজেপি ছয়টি শিক্ষা নিতে পারে।
প্রথমত : পাঁচটি রাজ্যই হিন্দি প্রধান রাজ্য। রাজস্থানের চেয়ে মধ্যপ্রদেশ এবং ছত্তিশগড়ে বিজেপির শক্ত অবস্থান ছিল। ছত্তিশগড়ে কুশাবাউ থাকরের মতো দক্ষ রাজনীতিকও ছিল বিজেপির। ২০১৩ সালে বিজেপি এই রাজ্যগুলোতে জয় পেয়েছিল। এবার সেখানে হার বিজেপির জন্য সতর্কবার্তা। দিল্লির রাজনীতিতে বরাবরই সবচেয়ে বড় ভূমিকা নেয় মধ্য ভারত তথা হিন্দি বলয়।
দ্বিতীয়ত : বুথ ফেরত জরিপ সম্পর্কেও চিন্তা-ভাবনা করতে হবে বিজেপিকে। কারণ এসব জরিপে ক্ষমতাসীন দলকে জয়ী করা হয়। এটা যে সবসময় খাটি নয় সেটা বুঝতে হবে। এসব জরিপে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ঠিকমতো অনুসরণ করা হয় না। এটা একটা বিপজ্জনক দিকও বটে।
তৃতীয়ত : সাধারণ মানুষের মনে পরিবর্তন হয়েছে। তারা সামপ্রতিককালে প্রধানমন্ত্রী মোদীর বক্তব্যে সন্তুষ্ট নয়। নির্বাচনের সময় ভারতের মতো দেশে এই ধরনের মন্তব্য করা সমীচিন নয়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ি এই ধরনের মন্তব্য কখনো করেননি। তিনি কখনো উস্কানিমূলক বক্তব্য দেননি। একজন প্রধানমন্ত্রী অন্যান্য দলের নেতাদের সঙ্গে নিজেকে তুলনা করতে পারেন না।
চতুর্থত : উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এবং হিন্দুত্ববাদিতার কার্ড ভোটারদের মন জয় করতে ব্যর্থ হয়েছে। এটা বিজেপিকে বুঝতে হবে। যোগী আদিত্যনাথ নিজ রাজ্যেই টালমাটাল অবস্থায় আছেন।
পঞ্চমত : প্রধানমন্ত্রী মোদী কংগ্রেসমুক্ত ভারত গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। এই স্বপ্ন ভেঙে গেল। গণতন্ত্রে বিরোধী দল থাকবে। সেখানে প্রধান বিরোধী দলকে কিভাবে ধ্বংস করা সম্ভব? প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং বিজেপি সভাপতি অমিত শাহের এই আশা করা যে ভুল তা এই নির্বাচনে বিজেপির পরাজয়ে প্রমান হয়েছে। বিজেপি হয়তো বলতে পারে, লোকসভা আর বিধানসভা নির্বাচনের মধ্যে অনেক পার্থক্য। কিন্তু তাই বলে বিধানসভাকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই।
ষষ্ঠত : ভারতের রাজনীতিতে ঔদ্ধত্য কখনো ভাল ফল বয়ে আনে না। ভোটাররা চায় আপনি তাদের কাছে বিনীতিভাবে ভোট চান। নিজে ভুল করলে তা স্বীকার করে সংশোধনের চেষ্টা করেন। বিজেপির মধ্যে এই ঔদ্ধত্যের মনোভাবটা গড়ে উঠেছে। বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর সেই ঔদ্ধত্যকে মন থেকে ঝেড়ে ফেলা উচিত বিজেপির। তথ্যসূত্র : এনডিটিভি