গ্রেফতার আতঙ্কে পোলিং এজেন্ট বাছাইয়ে সতর্ক বিএনপি

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট কেন্দ্রগুলোতে নিয়োজিত করার জন্য দলীয় পোলিং এজেন্ট বাছাই শুরু করেছে বিএনপি। তবে দলের কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী সেটা করা হচ্ছে গোপনে-সন্তর্পনে-সতর্কতার সাথে। কারণ তালিকা প্রকাশ পেলেই এজেন্টরা গ্রেফতার হতে পারেন এমন আশঙ্কা রয়েছে দলটিতে।

বিএনপির একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ভোটের শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রে থাকার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সারা দেশের ৪০ হাজার ১৮৩টি ভোট কেন্দ্রের পোলিং এজেন্টদের প্রশিক্ষণ দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে দলটি। পোলিং এজেন্টদের করণীয় নিয়ে একটি খসড়াও তৈরি করা হচ্ছে। ১১ দফা নির্দেশনায় পোলিং এজেন্টদের সারা দিনের করণীয় জানিয়ে দেওয়া হবে। জাতীয় পরিচয়পত্র, পোলিং এজেন্ট কার্ড, মামলার জামিনের কাগজপত্র, প্রয়োজনীয় অর্থ, খাবার, ভোটার তালিকা, কাগজ ও কলম সঙ্গে নিয়ে সকাল ৭টায় প্রস্তুত হয়ে প্রিসাইডিং অফিসারের কাছ থেকে স্বাক্ষর  নিয়ে পোলিং এজেন্ট হওয়ার বৈধতা নিশ্চিত করার প্রতি নির্দেশনা দেয়ার কথা রয়েছে খসড়ায়। একই সাথে ব্যালট বাক্সের হিসাব নেওয়া, ব্যালট পেপার ও কেন্দ্রের ভোটারসংখ্যার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা, প্রতিটি বুথে ভোটারসংখ্যা অনুযায়ী ব্যালট পেপার ও বাক্স বুঝে নেওয়া ইত্যাদি নির্দেশনা রয়েছে খসড়ায়। নির্দেশনায় ভোট শেষে মূল পোলিং এজেন্টকে ব্যালট পেপার-বাক্সসহ আগের সংখ্যার সঙ্গে মিলিয়ে নেয়ার কথা বলা হয়েছে।

বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে কিছু দিন আগে সারাদেশে ভোটকেন্দ্রের আশেপাশের এলাকার নেতা-কর্মীদের নাম, তাদের বিরুদ্ধে বিগত দিনের মামলা, বর্তমান অবস্থা, সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা, সংখ্যালঘু ভোটারের সংখ্যা, আনুমানিক বিরোধী জোটের ভোট, সরকারি দলের ভোট, বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের নাম, আর্থিক অবস্থা, সামাজিক অবস্থান, পেশীশক্তির ব্যবহারসহ নানা বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করেছে। এদের মধ্যে ভোট কেন্দ্রে পোলিং এজেন্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, এমন অনেককে গ্রেফতার করা হয়েছে। নতুন মামলাও দেয়া হচ্ছে। বিএনপির নেতাকর্মীরা বলছেন, সংসদ নির্বাচনের আগে যেভাবে নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে, এর ফলে নির্বাচনে পোলিং এজেন্ট দিতে সমস্যায় পড়তে হবে।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমানের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল গতকাল সিইসি কে এম নূরুল হুদার সঙ্গে সাক্ষাত্ করে অভিযোগ করেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে যেভাবে বিএনপির নেতা-কর্মীদের ধর-পাকড় করা হচ্ছে, তাতে নির্বাচনের সময় কোনো এজেন্ট পাওয়া যাবে কিনা তা নিয়ে আমরা চিন্তায় আছি। তারা অভিযোগ করেন, নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রগুলোকে বিএনপির এজেন্টশূন্য করতে চায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এই উদ্দেশ্য হাসিল করতেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সুনির্দিষ্টভাবে বিএনপির সক্রিয় নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোয় দেশবাসী দেখেছে, কীভাবে বিএনপির পোলিং এজেন্টদের গ্রেফতার করা হয়েছে। আগামী নির্বাচনের আগে সরকার সেই রকম কোনও অশুভ পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে কিনা, তা নিয়ে বিএনপির সন্দেহ রয়েছে। ফলে আমরা সব কিছু সতর্কতার সাথে করছি। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, সরকার নীলনকশা অনুযায়ী গ্রেফতার ও হামলা চালাচ্ছে। ভোটের দিন পোলিং এজেন্ট দিতে সমস্যার সৃস্টি করার অপচেস্টা চালাচ্ছে তারা।