মোবাইল ফোন টাওয়ার বিষয়ে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

ভবিষ্যতে স্কুল-কলেজসহ দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল-ক্লিনিক, আদালত, কারাগার, খেলার মাঠ, প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনাসহ  জনসমাগমস্থলে মোবাইল ফোনের টাওয়ার স্থাপন না করার বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করতে বিটিআরসিকে বলেছে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় থাকা এসব টাওয়ার সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে বলা হয়েছে। বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের পূর্ণাঙ্গ রায়ে এ নির্দেশনা রয়েছে। গত ২৫ এপ্রিল হাইকোর্ট এ রায় ঘোষণা করে। সম্প্রতি পূর্ণাঙ্গ এ রায় প্রকাশ পেয়েছে বলে জানান বিটিআরসির আইনজীবী ব্যারিস্টার খোন্দকার রেজা-ই-রাকিব।

মোবাইল টাওয়ার থেকে নিঃসৃত রেডিয়েশন মানব স্বাস্থ্যের জন্য কতটুকু ক্ষতিকর সে বিষয়ে নির্দেশনা চেয়ে ২০১২ সালে হাইকোর্টে রিট করে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। ঐ রিটের রায়ে হাইকোর্ট ১২ দফা নির্দেশনা দেয়।

রায়ে বলা হয়, আমদানিকৃত মোবাইল সেটে বিকিরণের মাত্রা কেমন তা সংশ্লিষ্ট সেটে উল্লেখ, মোবাইল টাওয়ারের বিকিরণ নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে এক দশমাংশ করা, বিকিরণ বেশি হলে পুরোনো টাওয়ার অপসারণ করে নতুন টাওয়ার স্থাপন, অধিকমাত্রায় বিকিরণ যাতে না হয় সে জন্য অতিরিক্ত নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ, টাওয়ার বসাতে জমি অধিগ্রহণে বাধা থাকলে বিকল্প পদ্ধতি গ্রহণ, স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে বিটিআরসির মনিটরিং সেল গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়।

আদালত বলেছে, মোবাইল টাওয়ার থেকে নিঃসৃত বিকিরণ নিয়ন্ত্রণে চূড়ান্ত গাইডলাইন প্রণয়নের আগে এ সংক্রান্ত সমীক্ষা করা দরকার। এর সঙ্গে জনগণের স্বাস্থ্য ঝুঁকির বিষয়টি সম্পৃক্ত রয়েছে।