মাদারীপুরের রাজৈরে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) দুই সদস্যকে জবাই করে হত্যার পর লাশ টুকরা টুকরা করে নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার ঘটনায় প্রায় তেরো বছর আগে দায়ের হওয়া মামলার রায়ে ২০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। গতকাল বুধবার ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৩ এর বিচারক মো. মনির কামাল মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ের আদেশে দণ্ডের পাশাপাশি তাদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে তাদের আরও তিন মাস কারাগারে থাকতে হবে।
মামলায় দণ্ডিত ২০ আসামির মধ্যে ১৩ জনই পলাতক। তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। আসামিরা গ্রেফতার হলে অথবা আত্মসমর্পণ করার পর থেকে সাজার মেয়াদ শুরু হবে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে কারাগারে থাকা ৭ আসামিকে রায়ের পর হাজতি হিসাবে সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।
বিচারক রায় ঘোষণার আগে পর্যবেক্ষণে বলেন, “দুষ্টের দমন আর শিষ্টের পালন করে কল্যাণমুখী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় পুলিশ ভূমিকা রাখে। তারা জরুরি সেবা দেয়, জনগণের সঙ্গে রাষ্ট্রের সেতুবন্ধ তৈরি করে। অথচ সর্বহারা নামের এই উচ্ছৃঙ্খল সন্ত্রাসীরা পুলিশ সদস্যকে হত্যা করেছে। ন্যায় বিচার নিশ্চিত করার জন্য আসামিদের দণ্ড প্রদান করা হলো।”
পলাতকরা হলেন- জসিম শেখ, মাছিম শেখ, দাদন ফকির, জাফর মাতুব্বর, মজনু মাতুব্বর, ফয়েজ শেখ, উজ্জল হওলাদার, কুব্বাস মাতুব্বর, হালিম আকন, আমীর হোসেন শেখ, মিরাজ শিকদার, এমো মোল্লা ওরফে মুন্সি ওরফে হেমায়েত মোল্লা ও সুমন বাঘা।
দণ্ড দিয়ে কারাগারে ফেরত পাঠানোরা হলেন- মোশাররফ শেখ, বজলু আকন, দিপু ওরফে টিপু বিশ্বাস, সৈকত মোল্লা ওরফে সাগু মেম্বার, আশরাব শরিফ, আজাদ মোল্লা ও দবির মোল্লা।
খালাস পেয়েছেন চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন মোল্লা, শাহাদত আকন, মোতালেব মাতুব্বর ওরফে মতলেব মেম্বার, মাসুদ শিকদার, হেলাল শিকদার ও আসলাম ওরফে নূরুল ইসলাম ওরফে বাবু। রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনাকরী ট্রাইব্যুনালের পিপি মাহবুবুর রহমান বলেন, আসামিদের মৃত্যুদণ্ড আশা করেছিলাম। আসামিদের দেওয়া দণ্ডের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করবেন কিনা তা জানতে চাইলে পূর্ণাঙ্গ রায় পাওয়ার পর ওই বিষয়ে ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান তিনি।