সীমানা বিরোধ নিষ্পত্তি
jvএম এম ওমর ফারুক, কালিয়া (নড়াইল) সংবাদদাতা
বিরোধ নিষ্পত্তির পর নড়াইল ও বাগেরহাট জেলার সীমান্তবর্তী আঠারোবাকি নদীর পুনঃখনন কাজ দুই বছর ধরে আটকে থাকার পর গত সোমবার বিকাল থেকে শুরু হয়েছে। এতে জলাবদ্ধতার হাত থেকে রক্ষা পাবে ৪৩ হাজার হেক্টর ফসলি জমি। কৃষিসহ নানা ক্ষেত্রে সুফল ভোগ করবে নদী তীরবর্তী লাখ লাখ মানুষ। নদীর দুই পাড়ে গড়ে তোলা হবে সামাজিক বনায়ন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, খনন কাজ শুরুর পর নদীটির প্রকৃত স্থান নির্ধারণ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে নড়াইল ও বাগেরহাট জেলার সীমানা সংক্রান্ত মতোবিরোধ দেখা দিলে দুই জেলার সীমানা নির্ধারণের বিষয়টি সামনে চলে আসে। সেই মতবিরোধের কারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঐ নদীর তিন কিলোমিটার অংশের খনন কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখেন। দুই বছরেরও বেশি সময় নদীটির ঐ অংশের কাজ বন্ধ থাকার পর গত ১৪ অক্টোবর নড়াইলের কালিয়া উপজেলা প্রশাসন, বাগেরহাটের মোল্লারহাট উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড খুলনার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা যৌথ পরিমাপের মাধ্যমে দুই জেলার সীমানাসহ আঠারোবাকি নদীর প্রকৃত স্থান নির্ধারণের মাধ্যমে জেলা দুটির সীমানা নির্ধারণসহ নদীটির প্রকৃত অবস্থান নির্ণয় করে ঐ দুই জেলার বাসিন্দাদের মতবিরোধের নিষ্পত্তি করেছেন।
কালিয়া উপজেলার আঠারোবাকি নদী তীরবর্তী পহরডাঙ্গা ইউপির চেয়ারম্যান মোল্লা মোকাররম হোসেন হিরু বলেন, ‘পুনঃখনন কাজ সম্পন্ন হলে ৩০ বছর পর নাব্য ফিরে পাবে আঠারোবাকি। নদীর দুই পাড়ের ১৩টি বিলের ৪৩ হাজার হেক্টর জমি জলাবদ্ধতার হাত থেকে রক্ষা পাবে।’
বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলার ইউএনও মাফফারা তাসনীন বলেন, ‘নদীটির পুনঃখনন কাজ শেষ হলে কৃষিতে ব্যাপক পরিবর্তন হবে। যা ফসল উত্পাদনের সুবিধার পাশাপাশি প্রাকৃতিক পরিবেশেরও সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।’
নড়াইলের কালিয়ার ইউএনও মো. নাজমুল হুদা বলেন, ‘দুই জেলার সীমানা বিরোধের মীমাংসা হওয়ায় নদীটির খনন কাজ যত দ্রুত সম্ভব শেষ করা হবে।’
পানি উন্নয়ন বোর্ডের খুলনা বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী শরীফুল ইসলাম বলেন, ‘নদীটির খনন কাজ দ্রুতই সম্পন্ন করা হবে। ভরাট হয়ে যাওয়া আঠারোবাকি ৩০ বছর পর আবার মধুমতীতে মিলিত হবে। থাকবে না লবণপানির প্রকোপ, দূর হবে মিঠাপানির সংকট। নদীর দুই পাড়ে গড়ে তোলা হবে সামাজিক বনায়ন। এই অঞ্চলের কৃষিতেও ব্যাপক পরিবর্তন সাধিত হবে।’