গ্যালারি কায়ায় বিশেষ প্রদর্শনী

গঙ্গা-যমুনা সাংস্কৃতিক উত্সবে চার নাটক মঞ্চস্থ

ইত্তেফাক রিপোর্ট

সাশ্রয়ী মূল্যে ছবি সংগ্রহের জন্য এক বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে উত্তরার গ্যালারি কায়া। ইচ্ছে থাকলেও অনেক শিল্পরসিক দেশের স্বনামধন্য শিল্পীদের ছবি সংগ্রহ করতে পারেন না। বিশেষ করে সেসব শিল্পরসিকদের জন্যই এই আয়োজন। এ প্রদর্শনীতে ছবির দাম রাখা হয়েছে ৪ হাজার থেকে ৭১ হাজার টাকার মধ্যে। এ প্রদর্শনীতে বাংলাদেশে ও ভারতের স্বনামধন্য শিল্পীদের ছবি স্থান পেয়েছে। রয়েছে প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ শিল্পীদের ছবিও। গতকাল ‘অ্যাফোরেডবল অটাম’ শীর্ষক এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়। এ প্রসঙ্গে গ্যালারি কায়ার পরিচালক শিল্পী গৌতম চক্রবর্তী বলেন, যারা শিল্পরসিক তাদের সবারই ছবি সংগ্রহের আগ্রহ থাকে। চড়া দামের কারণে অনেকের পক্ষেই তা সংগ্রহ করা সম্ভব হয় না। আমাদের এ প্রদর্শনীর উদ্দেশ্য কমদামে ছবি সংগ্রহের সুযোগ সৃষ্টি করা। ফলে একদিকে, তরুণ ও নবীন সংগ্রাহকদের ছবি কেনার সুযোগ সৃষ্টি হবে অপরদিকে, শিল্পের ক্রেতা বৃদ্ধির ফলে শিল্পের বাজারও বৃদ্ধি পাবে। শিল্পীদের ছবি বিক্রির হারও বাড়বে।

প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়া শিল্পীরা হলেন—আবুল বারক আলভী, আদিত্য বসাক, আহমেদ শামসুদ্দোহা, আনিসুজ্জামান, আশরাফুল হাসান, দিদারুল হাসান লিমন, ফাহাদ উদ্দিন, গৌতম চক্রবর্তী, জামাল আহমেদ, কামালুদ্দীন, কামরুল খান, কাজী রাকিব, মোহাম্মদ ইকবাল, মনিরুল ইসলাম, মুর্তজা বশীর, মুসলিম মিয়া, নগরবাসী বর্মণ, রাফি হক, রফিকন নবী, রণজিত্ দাস, রতন মজুমদার, রোকেয়া সুলতানা, রুহল আমিন তারেক, শাহানুর মামুন, শেখ আফজাল হোসেন, শেখ মো. রোকনুজ্জামান, শিশির ভট্টাচার্য ও সোহাগ পারভেজ। ভারতের শিল্পীদের মধ্যে রয়েছেন অজিত শীল, অমিতাভ ভট্টাচার্য, অতীন বসাক, অতুল দাদিয়া, বদ্রি নারায়ণ, চঞ্চল গাঙ্গুলী, চন্দ্র ভট্টাচার্য, জয়ন্ত নস্কর, যোগেন চৌধুরী, কে জি সুব্রামানিয়াম, কৃষেন খান্না, লালু প্রসাদ শাউ, মনোজ দত্ত, মনোজ মিত্র, নিরঞ্জন প্রধান, পংকজ পানওয়ার, পার্থ দাশগুপ্ত, প্রভাকর কোল্ট, প্রদীপ মৈত্র, রামেন্দ্র নাথ কাষ্ঠ, সনত্ কর, সুহাস রায় ও সুজিত সরকার। উত্তরার ৪ নম্বর সেক্টরের ১৬ নম্বর রাস্তায় ২০ নম্বর বাড়িতে প্রদর্শনী চলবে ২ নভেম্বর পর্যন্ত।

রাজধানীতে চলছে গঙ্গা-যমুনা সাংস্কৃতিক উত্সব। গতকাল ছিল এই উত্সবের ৮ম দিন। এদিন ভারতের একটিসহ মোট চারটি নাটক মঞ্চস্থ হওয়ার পাশাপাশি ছিল পথনাটক, আবৃত্তি, সংগীত ও শিশুদের পরিবেশনা। সকালে ছিল নাটকবিষয়ক সেমিনার।

গঙ্গা-যমুনা সাংস্কৃতিক উত্সবে শুক্রবার সকালে নাটকবিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। শিল্পকলা একাডেমির মূল মিলনায়তনের কনফারেন্স রুমে এ সেমিনারে মূলপ্রবন্ধ পাঠ করেন নাট্যজন মামুনুর রশীদ। সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব গোলাম কুদ্দুছের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ভারত থেকে আগত নাট্যজন কৌশিক চট্টোপাধ্যায়, মহিত বন্ধু অধিকারী, আবৃত্তিশিল্পী আহকাম উল্লাহ, নাট্যজন আজাদ আবুল কালাম, নাট্যজন আহমেদ ইকবাল হায়দার, জাহিদ রিপন, অপূর্ব কুমার কুন্ডু, তপন হাফিজ, হানিফ খান, আসাদুল ইসলাম, মোতালেব হোসেন।

বিকালে নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে ভারতের নাট্যদল বেলঘরিয়া অভিমুখের নাটক ‘কোজাগরী’ মঞ্চস্থ হয়। নাটকটি নাট্যরূপ ও নির্দেশনায় ছিলেন কৌশিক চট্টোপাধ্যায়। এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে মঞ্চস্থ হয় অনির্বাণ থিয়েটারের নাটক ‘জিষ্ণুযারা’ নির্দেশনায় ছিলেন আনোয়ার হোসেন। স্টুডিও থিয়েটার হলে নাট্যম বরিশালের নাটক তিলক মঞ্চস্থ হয়। এদিন মহিলা সমিতি মিলনায়তনে প্রাচ্যনাট-এর নাটক পুলসিরাত মঞ্চস্থ হয়। মুক্তমঞ্চের মঞ্চে অনুষ্ঠান শুরু হয় বিকালে। সেখানে পথনাটক পরিবেশন করে মৈত্রী থিয়েটার, রঙ্গপীঠ নাট্যদল। দলীয় আবৃত্তি পরিবেশন করে প্রকাশের শিল্পীরা। দলীয় সংগীত পরিবেশন করে ভিন্নধারা। দলীয় নৃত্য পরিবেশন করে নৃত্যজন। শিশুকিশোর পরিবেশনায় অংশ নেয় মৈত্রী শিশুদল। জাতীয় সংগীত, আবৃত্তি ও নৃত্যকলা মিলনায়তন সন্ধ্যায় দর্শনীর বিনিময় পরিবেশিত হয় প্রমা আবৃত্তি সংসদ, চট্টগ্রামের আবৃত্তি পরিবেশনা ‘সোজন বাদিয়ার ঘাট’, বুলবুল একাডেমি অব ফাইন আর্টস (বাফা)-এর নৃত্যালেখ্য আবহমান বাংলা।